নাটোর জেলার সদর থানাধীন হালসা ইউনিয়ন। বাজার ঘেষে বয়ে যাওয়া রাস্তায়(বাজারের মোড়ে) খানখন্দ ছিল অনেকদিন । সামান্য বৃষ্টিতেই হাটু পানি । উঠে গেছে পিচ। গর্ত হওয়ায় পানি জমে থাকে সারাক্ষণ। ফলে মাঝে মাঝেই ঘটে দুর্ঘটনা। উল্টে যায় রিকশা, পিকাপ সহ অন্যান্য যানবাহন। রীতিমতো জায়গাটি সবার কাছেই আতঙ্কের, দুর্ভোগের হয়ে ওঠে। ঘটে বেশ কিছু দুর্ঘটনাও। কখনো যদি পানি শুকিয়েও যায় গর্তের কারণে লেগে যায় গাড়ির জট।
কথায় বলে- দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ। সম্প্রতি জায়গাটির উপর উল্টে যায় একটি অটো সিএনজি। সেটার ভিডিও ধারণ করেন স্থানীয় যুবক ও কৃষি উদ্যোক্তা আজিজুর রহমান। ভিডিওটি মুহূর্তেই সাড়া ফেলে সবার মাঝে। তার আহবানে এগিয়ে আসেন আরো কয়েকজন যুবক।
কিন্তু এর জন্য তো অর্থ দরকার। তবে সেটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন উদ্যোক্তা আজিজুর রহমান নিজেও সঙ্গে ব্যবসায়ী তানভীর হিমেল, ব্যবসায়ী এসএম মহসিন, ইউনিয়ন তথ্য সেবা উদ্যোক্তা ইসরাইল কবির ,মিল্টন, দলিল লেখক মাসুদ রানা, দোকানী গোপাল ও হাকিম।
কেনা হয় ইট সুড়কি। সবাই মিলে জায়গাটি ভরাট করে। তাদের দেখাদেখি স্থানীয়রাও এ কাজে সামিল হন।
“গ্রামের এসব সামজিক কাজে যুবকরা যদি এগিয়ে না আসি তাহলে তো হবে না। সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে ও নিজ তাগিদেই আমরা এই কাজে হাত দিয়েছি। বলছিলেন এ কাজে যুক্ত এসএম মহসিন। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
‘চোখের সামনে একটা দুর্ভোগ। জনমানুষের দুর্ভোগ কমানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ববোধ থেকেই এগিয়ে আসা। এভাবেই বলছিলেন হিমেল তানভীর। তিনিও পেশায় একজন ব্যবসায়ী। প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে সড়কে গর্তের কারণে। আমরাতো বসে থাকতে পারি না এমন জনদুর্ভোগ দেখে। যোগ করেন হিমেল।
বিষয়টি সবার নজরে নিয়ে এসেছেন যিনি, আজিজুর রহমান বলেন, শুধু এই গর্ত ভরাট করেই নয়। আমরা আমাদের গ্রামে যে কোনো কাজে সবাই মিলে অংশ নিয়ে সমাজের সেবা করতে চাই। সবার অংশগ্রহণে এমন ছোট ছোট সমস্যার সমাধান যদি করতে পারি তাহলে এতে সবারই মঙ্গল হবে।
সড়কের এই মেরামত কাজের জন্য প্রশংসায় ভাসছেন এই স্বেচ্ছাসেবীরা।
এক অটচালক বললেন, এখন থেকে আর সমস্যা থাকলো না। এগিয়ে চলুক সবার এমন সব মহৎকাজ।
