নলডাঙ্গায় ৪০ বছর ধরে ব্রিজ আছে নেই সংযোগ সড়ক


বিশেষ সংবাদ নলডাঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক

(৩ দিন আগে) ২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৭:৩৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৪:৩৭ অপরাহ্ন

natoreview

লালপুর উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের ভট্টপাড়া থেকে খাজুরা যাওয়ার কাঁচা রাস্তায় প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মাণ করা সংযোগ সড়ক ছাড়া ব্রিজ। ছবি : নাটোরভিউ২৪

নলডাঙ্গায় প্রায় ৪০বছর কয়েকটি ব্রিজের সংযোগ সড়ক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। বছরের পর বছর অতিবাহিত হওয়ায় ব্রিজগুলোর অবস্থান অনেকটা নড়বরে হয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক ( কাঁচা রাস্তা) রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। এর ফলে এই ব্রিজগুলো চলাচলের অনুপযুক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই ব্রিজগুলো কাদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল তাও সঠিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

এলাকার প্রবীনেরা বলেছেন, প্রায় ৪০ বছর আগে ব্রিজ নির্মানের সময় এগুলোর সংযোগ রাস্তা ছিলো। পরে বড় বন্যার কারণে রাস্তা হারিয়ে যায়, কিন্তু সংস্কারের আর কখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ব্রিজগুলো তাই নিচের পায়ে হাঁটা রাস্তা থেকে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তা না থাকায় এখনও উপজেলার নুরিয়াগাছা, মহিষডাঙ্গাসহ আশেপাশের গ্রামের মানুষগুলো যোগাযোগের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

এলাকাবাসী সরকারের নিকট বার বার ব্রিজগুলো ও সংযোগ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে কোন কিনারা করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, নলডাঙ্গার উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের ভট্টপাড়া থেকে খাজুরা ইউনিয়নে চলাচলের জন্য প্রায় ৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় প্রায় ৪০ বছর আগে কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণ করা এমন  তিনটি ব্রিজ রয়েছে। ব্রিজগুলো এই এলাকার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এলাকার মানুষ সমস্যার সমাধানের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার আবেদন জানালেও কেউ কিছুই করতে পারেনি।

সংযোগ রাস্তা না থাকায় শুকনো মৌসুমে কৃষকদের যাতায়াতের জন্য ব্রিজগুলো বাধার সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা এই দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জন্য বাড়তি সমস্যা তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মাহবুব শেখ ও আবদুস সাত্তার জানান, ব্রীজগুলো প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু রাস্তা না থাকায় নিকটবর্তী গ্রামগুলোর হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। গ্রামের মানুষদের উপজেলা সদরে পৌঁছাতে কয়েক কিলোমিটার ঘুরতে হয়। এর ফলে গ্রামবাসীদের সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে।

ভট্টপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সংযোগ রাস্তা না থাকায় স্কুলে যাওয়ার সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। জরুরি অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও সমস্যা হচ্ছে। বর্ষার সময় ব্রিজগুলো পানির নিচে থাকায় নৌকা ভ্রমণের সময় অনেক পর্যটক দুর্ঘটনার শিকার হন। কালের সাক্ষী এই ব্রিজগুলো সাথে সংযুক্ত সড়ক নির্মাণ হলে এলাকার হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ কমে যাবে।

বিশেষ সংবাদ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ