সিংড়ায় সরকারি খাল দখলমুক্ত ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণের দাবিতে শনিবার মানববন্ধন। ছবি : নাটোরভিউ২৪
সিংড়ায় সরকারি ডহর (খাল) দখলমুক্ত ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলার হাতিয়ান্দহ ইউনিয়নের পাছলাড়ুয়া নবনির্মিত নেতুর পাশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে পাছলাড়ুয়া, নতুনবস্তি, মরাপতিয়া, ধুলিয়াডাঙ্গা, নারায়নপুর গ্রামের দেড় শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক অংশ গ্রহণ করেন।
কর্মসূচিতে স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কৃষক রাজু আহমেদ, শহিদুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ, রবিউল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল কাদের প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, পাছলাড়ুয়া-নতুনবস্তি রাস্তায় নবনির্মিত সেতুর মুখে প্রভাবশীদের পুকুর ও সরকারি ডহর (খাল) দখল করে মাছ চাষ করায় পাছলাড়ুয়া, নতুন বস্তি, মরাপাতিয়া ও ধুলিয়াডাঙা সহ পাশের সাতটি বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমিতে তিন ফসলের পরিবর্তে একটি ফসল হচ্ছে। বাঁকী সময় জলাবদ্ধতার কারণে কৃষক চাষাবাদ করতে না পারায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। দ্রুত সরকারি ডহর ও খাস জমি দখলমুক্তে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ভুক্তভোগী কৃষক সূত্রে জানা গেছে, এলাকার প্রভাবশালী বরজাহান খাঁ ও হাফিজুর রহমান ওরফে লুলু অবৈধ ভাবে সেতুর মুখে পুকুর খনন ও সরকারি খাল দখলে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া পুকুরের পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাসনের জন্য ছোট একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল সেটিও নেট দিয়ে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছেন প্রভাবশালী দখলদাররা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বরজাহান খাঁ বলেন, তার পুকুরের মধ্যে সরকারি জায়গা থাকলেও নিজের জায়গা দিয়ে পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা রেখেছেন। তবে সেখানে মাছ চাষের জন্য সাময়িক বেড়া দিয়েছেন। বাঁকী জায়গা ভেকু ব্যবসায়ীরা বাঁধ দিয়েছেন। আর হাফিজুর রহমান ওরফে লুলু বলেন, তার আগের পুকুরের বাঁধ কেটে দিয়ে তিনি নিজেই তার পুকুরের বাঁধ কেটে দিবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ভুক্তভোগী কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে।
ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, সরকারি খাল দখল করে অথবা বিলের পানির গতিরোধ করে মাছ চাষের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।
