প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে একুশে পদক নিলেন নটোরের ড. আব্দুস সাত্তার


সাহিত্য সংস্কৃতি বড়াইগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

(১ মাস আগে) ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৭:৫২ অপরাহ্ন

natoreview

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে একুশে পদক নিচ্ছেন অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার। ছবি : পিআইডি

বিশ্ব বরেণ্য চারুকলার শিক্ষক, লেখক এবং গবেষক অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে একুশে পদক গ্রহণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এ সম্মাননা হস্তান্তর করেন।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চকবড়াইগ্রামে ১৯৪৭ সালে জন্মগ্রহনকারী আব্দুস সাত্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পরে ১৯৭৩ সালে ওরিয়েন্টাল আর্ট বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

তিনি ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিত্রকলা, ছাপচিত্র এবং ভাস্কর্যের ওপর দুই বছর পড়াশোনা করেন। আব্দুস সাত্তার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্য এবং ব্রুকলিনের প্রাট ইনস্টিটিউটে ছাপচিত্রের ওপরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

তিনি বাংলাদেশের নতোন্নত কাঠখোদাই শিল্পের ওপরে গবেষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে অবসর গ্রহনের পরে প্রথমে প্রাচ্যকলা বিভাগে বেশ কিছু দিন শিক্ষকতা করলেও অদ্যাবধি অনারারি প্রফেসর হিসেবে সপ্তাহে দুদিন ক্লাস নিয়ে যাচ্ছেন।

আব্দুস সাত্তার শিল্পকলার পাশাপাশি নন্দনতত্ত্ব বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। এ সংক্রান্ত অসংখ্য প্রবন্ধ জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। শিল্পকলার ওপরে তার লেখা ২৬টি বই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যবই। প্রকাশিত বইয়ের তালিকায় ‘বাংলাদেশের নতোন্নত দারুশিল্প’, ‘শিক্ষা সংস্কৃতি রাজনীতি’, ‘অলংকার’,‘বাংলার শাসক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গ্রাফিতির বিপ্লব, ‘১২৫ বিশ্বসেরা প্রিন্টমেকার’ উল্লেখযোগ্য। সময়ের বিমূর্ত বিবর্তনের সুরেলা ধারায় ড. আব্দুস সাত্তারের শিল্প সত্তা এবং রঙের ইজেলে বারবার পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন পদ্ধতি ও প্রকরণের ভেতর দিয়ে তিনি তার শিল্প সৃষ্টির ধারা অব্যহত রেখেছেন।  

প্রথমদিকে প্রাচীন মোঘল এবং পারসিক চিত্রকলার সূক্ষ্ম কারুকার্যময় ভূবন অংকন করেছেন। পরে মনোনিবেশ করেছেন ছাপচিত্রে। এক সময় কাঠখোদাই শিল্প হয়ে উঠে অবলম্বন। কাঠ, জলরং, এক্রেলিক এবং তেলরং তাঁর শিল্পের মাধ্যম। শিল্পির কাজে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দু’টি ধারাই বিদ্যমান। সত্তরের দশক থেকে শিল্পকর্মে তিনি এখনো নিরবধি।

এ পর্যন্ত তার ছয়টি একক চিত্র প্রদর্শনী হয়েছে। দেশের বাইরে অন্তত ২৪টি দেশে তার শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকার সোনারগাঁও অভ্যন্তরীণ সজ্জার কাজ তিনি করেছেন। হোটেলের কক্ষসহ সর্বত্র তাঁর অংকিত ৩৫০টি চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে। তিনি অর্ধ শতাধিক বিভিন্ন পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।

কবি আল মাহমুদ শিল্পি সাত্তারের শিল্পকর্ম সম্পর্কে বলেছিলেন, শিল্পি আব্দুস সাত্তারের শিল্প কর্মের সঙ্গে পরিচয় যে কোনো কবির জন্যেই পরিতৃপ্তির ব্যাপার। তার কাজে বিশেষ করে গ্রাফিক প্রিন্ট ও জল রংয়ের কাজে দর্শকের চোখ আনন্দে স্নিগ্ধ হয়ে উঠে। প্রিন্টের মধ্যে বহুবর্ণ রেখার সমাবেশ ঘটিয়ে তিনি যে ছন্দের সৃষ্টি সৃষ্টি করেন কবির ভাষায় তা কবিতারই সগোত্র।

শিল্পি আব্দুস সাত্তার এই প্রতিবেদককে বলেন, ১৯৮৮ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে বিশ্বের চারুকলা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন বিশ্বের খ্যাতিমান ১২৫ জন শিল্পির তালিকা প্রণয়ন করে।  ওই তালিকাতে তাকে অন্তর্ভূক্ত করা গৌরব ও প্রশান্তির। তিনি শিল্পের কাজ, শিক্ষকতা এবং লেখালেখির মাধ্যমে সুন্দর জীবনের প্রতিটি মূহুর্তকে উপভোগ করে যেতে চান।


 

সাহিত্য সংস্কৃতি থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ