বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সোমবার পিঠা উৎসবে স্টল ঘুরে দেখছেন উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। ছবি : নাটোরভিউ২৪
পিঠা বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির অংশ। শীতকালে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে পিঠা পুলির আয়োজন হলেও শহুরে ব্যস্ততায় অনেকেই পিঠা-পুলির স্বাদ ভুলতে বসেছেন। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও হরেক রকমের পিঠা-পুলির পরিচয় তুলে ধরতে বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে দিনব্যাপী পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।
সোমবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ডালিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মলয় কুমার কুন্ডু, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক ডালিম কাজীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পিঠা উৎসবে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুধীজনেরা অংশ নেন।
পিঠা উৎসবে আটটি স্টলে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের তৈরী দুধ পুলি, তক্তি, নকশি পিঠা, পাতা পিঠা, ফুল পিঠা, পাটি সাপটা, দুধ চিতই, চন্দনকুলি, চৈ পাকান, চিতই, ভাপা, তাল পিঠা, নারকেলের চিড়া, রসপান, হৃদয়হরন, গোকুল পিঠা, দুধ সুন্দরী, ভ্যানিলা কেকসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক প্রকার রসালো ও মুখরোচক পিঠা ছিল।
ভোজন রসিকরাও এসব পিঠা খেয়ে নানা প্রশংসা করেছেন। তারা বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং পিঠার স্বাদ নেন। একই সঙ্গে তারা সন্তানদেরকে উৎসবে নিয়ে এসে বাহারী স্বাদ আস্বাদনসহ হরেক রকম পিঠার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ডালিয়া পারভীন বলেন, ব্যস্ততাপূর্ণ জীবনে অনেক পিঠার সাথেই আমাদের পরিচয় হারিয়ে যাচ্ছে। কিছু পিঠার নাম জানা থাকলেও স্বাদ মনে নেই। আজকের এই উৎসবে সেসব পিঠা খেয়ে ছোট বেলার অনেক স্মৃতিচারণ করলাম। গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে এভাবে শীতের পিঠা উৎসব হোক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, গ্রামগঞ্জে বিশেষ করে শীতকালে প্রতিটি বাড়িতে নানা ধরণের পিঠাপুলি তৈরি হয়। বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পিঠা-পুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। কারে ভীড়ে আমাদেরকে সারা বছর ধরেই ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার ভীড়ে একটু মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশি লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ হিসাবেই এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
