৫৫ বছরের ইতিহাসে ওরাওঁ সম্প্রদায়ভূক্ত প্রথম সংসদ সদস্য হলেন আন্না মিঞ্জ


রাজনীতি বড়াইগ্রাম

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি

(৩ ঘন্টা আগে) ২০ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, ৭:৫১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৭:৫৫ অপরাহ্ন

natoreview

নাটোর-নওগাঁ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিঞ্জ। নাটোর ভিউ২৪

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এই প্রথম ওরাওঁ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একজন নারী জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নাটোর-নওগাঁ আসনে আন্না মিঞ্জকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ওরাওঁ সম্প্রদায়ের এই নেত্রীর মনোনয়নকে আদিবাসী অধিকার আদায় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হাত ধরেদেশের সংসদীয় ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে।

আন্না মিঞ্জ বর্তমানে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল’-এর সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রামস) হিসেবে কর্মরত। এশিয়া ও আফ্রিকার ১৩টি দেশে শিক্ষা, যুব ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং লিঙ্গ সমতাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কৌশলগত নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি। তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কৌশলবিদ এর আগে কারিতাস, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ব্র্যাক বাংলাদেশের মতো শীর্ষস্থানীয় বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে প্রজেক্ট প্ল্যানিং ও ম্যানেজমেন্টে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানান, আন্না মিঞ্জের সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের সঙ্গে গভীর সংযোগের কারণেই তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। দল মনে করে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কাজ করে আসছেন। তার এই মনোনয়ন কেবল রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নয়, বরং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সমতার এক ইতিবাচক পদক্ষেপ। আন্না মিঞ্জ বর্তমানে ‘ন্যাশনাল কোয়ালিশন অফ ইনডিজেনাস পিপলস ইন বাংলাদেশ’-এর চেয়ারপারসন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আন্না মিঞ্জকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার স্বামী বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদ অ্যাডভোকেট জন গমেজ এবং আদিবাসী সংগঠনের নেতারা। তারা মনে করেন উত্তরের জনপদসহ সারা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, খ্রিষ্টান সম্প্রদায় এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর কণ্ঠস্বর এখন জাতীয় আইনসভায় জোরালোভাবে প্রতিধ্বনিত হবে। স্থানীয় পর্যায়েও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং মূলধারার রাজনীতিতে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। সংসদে যোগ দেওয়ার পর তিনি প্রান্তিক মানুষের শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।