নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পোশাক কারখানার নারী কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন লকু উদ্দিন (৪২) নামের এক প্রতিবেশী ও তাঁর চার সহযোগী। লকু উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে আজ শনিবার দুপুরে পুলিশের কাছে এ কথা স্বীকার করেন বলে আজ শনিবার দুপুরে নাটোরের পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ওই নারীর চার দিন আগে রংপুরের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই নারী খুন হওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক দল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য মাঠে নামে। তারা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সূত্র ব্যবহার করে লকু উদ্দিনকে শনিবার সকালে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় ওই নারীকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ওই নারী বাবার বাড়িতে বসবাস শুরুর পর থেকেই প্রতিবেশী লকু উদ্দিন তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হয়ে ওই নারী তাঁর মা-বাবাকে বিষয়টি বলে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হন লকু উদ্দিন। ওই নারীকে হত্যা করতে তাঁর সহযোগী ভ্যানচালক বুলবুল হোসেনের সঙ্গে পরিকল্পনা করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার রাতে কারখানা থেকে ওই নারী বুলবুলের ভ্যানে করে ফিরছিলেন। পথে ভ্যান থামিয়ে ওই নারীকে সড়কের পাশে পাটের জমিতে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে লকু উদ্দিন রক্তমাখা লুঙ্গি পরেই বাড়িতে চলে যান। আজ শনিবার সকালে পুলিশ ওই লুঙ্গি পরা অবস্থায় তাঁকে আটক করে। এর আগে আটক করা হয়েছে ভ্যানচালক বুলবুলকে।
এ ঘটনায় নিহত নারীর বাবা বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় লকু উদ্দিন ও বুলবুল নামের উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সিদ্দিক বলেন, আটক লকু উদ্দিন ও বুলবুল হোসেনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
