বড়াইগ্রামে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের ফাঁসির দাবিতে বুধবার গাড়ফা বাজারে মানববন্ধন। ছবি : নাটোরভিউ২৪
বড়াইগ্রামে ধর্ষণের পর মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শ্বাসরোধে হত্যা ও অ্যাসিডে মুখ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো উপজেলা।
বুধবার উপজেলা সদরসহ শিশুটির নিজ গ্রামে কয়েক দফা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ হত্যার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি, আটক হয়নি কোনো আসামি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিশুটির পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় চাটমোহর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার লাশ দাফন করা হয়েছে।
খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে বুধবার বিকাল ৪টায় গাড়ফা বাজারে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গাড়ফা সমাজকল্যাণ পরিষদের আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনকালে জেলা ও উপজেলা বিএনপি ও জামায়াত নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাদের দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেন। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ, জেলা বিএনপির সদস্য ও পিপি আব্দুল কাদের মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব আলী আকবর, সাবেক পৌর মেয়র ইসাহাক আলী, সাবেক উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মোল্লা, জামায়াত নেতা আতিকুল ইসলাম ও মাওলানা হাসানুল বারী, গাড়ফা সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি হাসান মাহমুদ ও কোষাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম এবং মারা যওয়া শিশুটিরি শিক্ষক মাওলানা আল আমিন বক্তৃতা করেন।
এর আগে উপজেলার বনপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং বনপাড়া সেন্ট যোসেফ্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে খুনিদের বিচার দাবিতে পৃথক পৃথক বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী এসব কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুঁইয়ের পরিবারের জন্য ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি এই ঘটনায় ন্যায়বিচার পেতে শিশুর পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে তারেক রহমানের নির্দেশে জেলা বিএনপির সদস্য এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল কাদের মিয়ার নেতৃত্বে একটি টিম ওই শিশুর বাড়িতে গিয়ে এ সহায়তা পৌঁছে দেন।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, শিশুটির বাড়ি বড়াইগ্রামে হলেও লাশটি চাটমোহরের সীমানায় পাওয়া গেছে। এ কারণে চাটমোহর থানায় মামলা হয়েছে। তবে দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশও যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে।
চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরজুমা আক্তার বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। হত্যার কারণ ও আসামিদের সনাক্তে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
সোমবার দাদির বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হয় মেয়েটি। পরদিন বাড়ির অদূরে একটি ভুট্টা খেতে তার বিবস্ত্র ও মুখে অ্যাসিডে ঝলসানো লাশ পাওয়া যায়।
