বড়াইগ্রামে চাষীরা জমি থেকে রসুন তোলায় ব্যস্ত
দেশের সর্বাধিক রসুন উৎপাদনকারী উপজেলা বড়াইগ্রামে বর্তমানে চাষীরা জমি থেকে রসুন তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনুকূল আবহাওয়ায় বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ভাল দাম পেয়ে খুশি রসুন চাষীরা। দাম স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি রসুনের সাথী ফসল তরমুজ ও বাঙ্গির ন্যায্য দাম পেলে গতবারের লোকসান কাটিয়ে উঠার আশা তাদের। তবে ভরা মৌসুমে বিদেশ থেকে রসুন আমদানী না করার দাবি জানান কৃষকরা।
সরেজমিনে রয়না, চকপাড়া, বাজিতপুর, জালশুকা ও তারানগর গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে রসুন বাছাই, বাধা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। এ সময় কৃষকরা জানান, এবার ইটালী, ঢাকাইয়া, বাড়ি-১, বাড়ি-২ ও পাটনাই জাতের রসুন বেশি চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার উপজেলায় ৬৬০০ হেক্টর জমিতে রসুনের চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ২৮-৩০ মণ রসুন উৎপাদন হয়েছে। যদিও লোকসানের কারণে এ মৌসুমে গত বছরের চেয়ে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ জমিতে রসুন চাষ কম হয়েছে। তারপরও বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দাম ভাল পেয়ে চাষীরা খুশি।
উপজেলার তারানগর এলাকার আব্দুর রউফ বলেন, এবার ৫ বিঘা জমিতে রসুনের সাথী ফসল হিসাবে তরমুজ ও বাঙ্গি চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ২৮-৩০ মণ হারে রসুন উৎপাদন হয়েছে। তবে প্রতি বছরই ভরা মৌসুমে সরকার বিদেশ থেকে অধিক পরিমাণে রসুন আমদানী করায় আমাদের লোকসান হয়। তাই কৃষকদের বাঁচাতে এ সময়ে রসুন আমদানী না করতে সরকারের প্রতি দাবি জানাই।
বাজিতপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বলেন, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরীসহ প্রতি বিঘায় রসুন চাষে ৩২-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সাথী ফসল তরমুজ ও বাঙ্গিতে আরো ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যারা জমি লিজ নিয়ে রসুন চাষ করেছেন তাদের খরচ আরো ১৫-২০ হাজার বেশি। বাজার ভালো থাকলে খরচ বাদে ৩৫-৪০ হাজার টাকা লাভ হবে।
রসুন ব্যবসায়ী ঈমান আলী বলেন, আকার ও মান এখন প্রতিমণ রসুনের দাম দুই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ এলাকার রসুন ঢাকা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।
রসুন তোলার সময় শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকরা আসেন বড়াইগ্রামে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ি থেকে আসা আব্দুল গফুর বলেন, দুই বেলা খাওয়াসহ ৪৫০-৫০০ টাকায় রসুন তোলার কাজ করছি। শ্রমিকের হাটে দাঁড়ালেই কাজ মিলে, কাজ শেষে নগদ টাকা পাই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, এ বছর উপজেলায় রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার হেক্টর। কিন্তু গত বছর দাম কম পাওয়ায় এবার ২ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ কম হয়েছে। বাজার ভালো থাকায় সে জায়গা দখল করে নিয়েছে ভূট্টা ও সরিষা। তবে এবার ভালো উৎপাদন হয়েছে এবং দামও ভালো।
