বাগাতিপাড়ায় রেলপথের সাড়ে ৩ হাজার স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত


বিশেষ সংবাদ বাগাতিপাড়া

বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি

(৫ দিন আগে) ১১ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৫:০৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৫:০০ অপরাহ্ন

natoreview

বাগাতিপাড়ায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার রেলপথের সাড়ে ৩ হাজার স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত। ছবি : নাটোরভিউ২৪

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার রেলপথ অতিক্রম করেছে। এই রেলসীমার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ টি কংক্রিট স্লিপার ভেঙে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।

ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ রেলপথটি দিন দিন ঝুঁকিপূূর্ণ হয়ে উঠছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্লিপারের উপর দিয়েই প্রতিদিন দ্রুতগতিতে চলাচল করছে দ্রুতগামী আন্তঃনগর, মেইলসহ সব ধরনের ট্রেন। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ও যাত্রীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্লিপারগুলো ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করা না হলে যাত্রী নিরাপত্তা মারাত্নক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ স্লিপার প্রতিস্থাপন ও রেলপথ মেরামতের দাবি স্থানীয় ও ট্রেনযাত্রীদের। রেল কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে,  রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই রেলপথই প্রধান মাধ্যম। ঢাকা-খুলনা হতে আব্দুলপুর হয়ে এবং রাজশাহী থেকে নাটোরসহ উত্তারঞ্চলে এই রেলপথে দ্রুতগামী আন্ত:নগর ট্রেন চলাচল করে।এই রেললাইন দিয়ে প্রতিদিন আপ-ডাউন মেইল, আন্তঃনগর ও ঢাকাগামীসহ ৩২টি ট্রেন যাতায়াত করে। কর্তৃপক্ষ বলছেন, যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৪শ’ টি।

সরেজমিনে রেলপথের এসব অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার সান্তাহার কিলোমিটার বোর্ড সেকশনের পিলার ২২৬/৩ থেকে সেকশন পিলার ২৩৩/০ এর আওতাধীন শত শত রেলের স্লিপার ভেঙে আছে। উপজেলার বড়াল ব্রিজ এলাকা, মালঞ্চি রেল স্টেশন, মালঞ্চি বাজার লেভেল ক্রসিং, বড়পুকুরিয়া লেভেল ক্রসিং, ঠেঙ্গামারা লেভেল ক্রসিং,স্বরিপপুর লেভেল ক্রসিং ও ইয়াছিনপুর রেল স্টেশন এর লেভিং ক্রসিং এলাকায় অধিকাংশ কংক্রিট স্লিপার ফেটে ভেঙে গিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও বাকি অনেক স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হবার উপক্রম হয়ে আছে। অনেক স্থানে রেললাইনের নিচের স্লিপার নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। কোথাও নাট-বল্টু খুলে বেরিয়ে গেছে আবার কোথাও স্লিপারের নাটবন্টু চুরি হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও স্লিপারের ভেতরের লোহার তার বাইরে বের হয়ে রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে একটি স্লিপার ভাঙা থাকলেও, কোথাও একসঙ্গে ৪ থেকে ৫টি স্লিপার ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। দ্রুত মেরামত না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
মালঞ্চি রেল স্টেশনের পাশে পেড়াবাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা ওমর আলী ম­ল জানান, দীর্ঘদিন থেকে রেলের স্লিপারগুলো ভেঙে আছে। এরওপর দিয়েই দ্রুত গতিতে ট্রেন চলে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্লিপারগুলো ভাঙার কারণে ট্রেন চলাচলে আরও স্লিপারগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে এগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।

বড়পুকুরিয়া লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান আমিরুল ইসলাম ও ইয়াছিনপুর লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান ইরাক হোসেন জানান, রেললাইনের অনেক স্লিপার দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে একসঙ্গে একাধিক স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেললাইন থাকলে যেকোনো সময় ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও জানান, অনেক আগেই রেল কর্তৃপক্ষ এসে ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপারগুলো পরিদর্শন করে গেছেন, তবে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বাগাতিপাড়া সিমানায় দায়িত্বে নিয়োজিত রেল মিস্ত্রি (মেট) কিরণ সরকার জানান, বাগাতিপাড়া রেলসীমার সাড়ে ৭ কিমি. এর মধ্যে তার দায়িত্বাধীন এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি কংক্রিট স্লিপার ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। প্রতি ছয় মাস পরপর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তার এলাকার  রেলপথের  প্রতিবেদন জমা দেন এবং প্রতিবেদনে এসব ভাঙা স্লিপারের বিষয়েও প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক(জিএম) ফরিদ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি তিনি আবগত আছেন। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে ওই ভাঙা স্লিপারগুলো অপসারণ করে রেল লাইনের সংস্কার করা হবে।