চলনবিলে রসুন তোলায় ব্যস্ত চাষীরা


অর্থ-বাণিজ্য

নাটোর ভিউ প্রতিবেদক

(৩ বছর আগে) ২৮ মার্চ ২০২৩, মঙ্গলবার, ২:০৯ অপরাহ্ন

natoreview

রসুন তোলায় ব্যস্ত এক কৃষক

নাটোর রসুন চাষীরা জমি থেকে রসুন তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শতভাগ উৎপাদনে খুশি এ এলাকার কৃষকেরা। বাজারে রসুনের দাম স্থিতিশীল থাকলে ভালো ফলনে লাভের আশা করছেন রসুন চাষীরা। সাদা সোনা খ্যাত রসুনের সাথী ফসল তরমুজ ও বাঙ্গীতে বাড়তি আয়ের স্বপ্ন বুনছেন তারা। 
জেলার গুরুদাসপুর থেকে নয়াবাজার সড়কের পার্শ্বের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে রসুন বাছাই, বাধাই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় কৃষকসহ বাড়ির অন্য সদস্যদের।
বনপাড়া হাটিকুমরুল মহাসড়কের দুপাশে নয়াবাজার থেকে বড়াইগ্রামের রয়না তেল পাম্প পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে জমি থেকে রসুন তোলায় চাষিদের কর্মব্যবস্তা চোখে পড়ে।
নাটোর সাতটি উপজেলায় সবথেকে বেশি চাষ হয়েছে ইটালী, ঢাকাইয়া, বাড়ি-১, বাড়ি-২ ও পাটনাই জাতের রসুন। 
নাটোর জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর ১৬ হাজার ৭শ ৪৫ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছে, যার সিংহভাগই চাষ হয়েছে গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলায়, যথাক্রমে ৪ হাজার ৫শ ৫০ এবং ৬ হাজার ৬শ ৫০ হেক্টর।
নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহাকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. হামিদুর রহমান, “নাটোর লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ রসুনের উৎপাদন হয়েছে। প্রতি বিঘায় ২৮ থেকে ৩০ মণ রসুন উৎপাদনের লক্ষমাত্রায় উৎপাদনও হয়েছে ২৮ থেকে ৩০ মণ।“
গুরুদাসপুর উপজেলার সিধুলী এলাকার রসুন চাসী মোশারফ হোসেন ৫ বিঘা জমিতে রসুনের সাথে তরমুজ ও বাঙ্গী চাষ করেছেন জানিয়ে বলেন, “প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হারে মণ উৎপাদন হয়েছে। বাজার ভালো থাকলে লাভ হবে। বাজার একটু কমলেও তরুমুজ ও বাঙ্গীতে পুষিয়ে যাবে।“
প্রতি বিঘায় খরচ কেমন হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বীজ, কীটনাশক, সেচ, পরিচর্যা, শ্রমিক, জমির লীজসহ আনুষাঙ্গিক খরছ দিয়ে ৫০ থেকে ৫২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে প্রতি বিঘায়। এভাবে তরুমুজ ও বাঙ্গীতে বিঘাপ্রতি ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাজার ভালো থাকলে রসুন, তরুমুজ ও বাঙ্গীতে খরচ বাদে হাজার ত্রিশেক টাকা থাকবে। যাদের নিজের জমি তাদের লাভটা আরো বেশি হবে।“
নয়াবাজার এলাকায় রসুনের ব্যবসা করেন মাসুদ পারভেজ মিলন। রসুনের বাজার কেমন যাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আকার, মান ও জাতভেদে এখন প্রতিমণ রসুনের দাম ১৬শ টাকা থেকে ২৮শ টাকা। বাজারে খুচরা ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে রসুন।“
স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ময়মনসিংহ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে নাটোর রসুন বলে জানান মিলন।
গুরুদাসপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান জানান, গতবছর ভালো দাম না পাওয়ায় এ বছর উপজেলায় রসুনের আবাদ ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে কম হয়েছে। বাজার ভালো থাকায় যে জায়গা দখল করে নিয়েছে ভুট্রা ও সরিষা। এ বছর খুব ভালো উৎপাদন হয়েছে এবং দামও ভালো আছে রসুনের। এছারা তরমুজ ও বাঙ্গীতে বাড়তি আয় হবে কৃষকদের।
রসুন তোলার সময় নাটোরে চাহিদা বাড়ে শ্রমিকের। তাই সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও বগুড়া থেকে  অনেক শ্রমিক শ্রম বিক্রি করতে আসেন গুরুদাপসুর ও বড়াইগ্রামে। 
সিংড়া উপজেলার কলম গ্রামের মিলন আহমেদ এসেছেন গুরুদাসপুরের নয়াবাজারে এসেছেন কাজের সন্ধানে। তিনি বলেন, “আজকে সাড়ে চারশ টাকায় রসুন তোলা, বাধান ও বহনের কাজ করছি। সকালে ও দুপরের খাওয়া জমির মালিকের।“
সিরাজগঞ্জের মান্নাননগর এলাকার থেকে আশরাফুল, সেলিম, মিজান, আব্বাসসহ ২০ জন এসেছেন রসুন তোলার কাজ করতে। আব্বাস আলী বলেন, “এলাকায় তেমন কাজ নেই, তাই সবাই মিলে রসুন তুলতে এসেছে। পাঁচশ টাকা করে মিটেছে। সকালে এসেছি, সন্ধায় বাড়ি চলে যাবো।“
নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “নাটোরে রসুনের বাম্পার ফলন হয়েছে, বাজার রসুনের দামও ভালো আছে। রসুনের সাথী ফসল তরমুজ ও বাঙ্গীতে বাড়তি মুনাফা হবে কৃষকদের। রসুনের ভালো ফলন ও বাজারে ভালো দাম থাকার কারণে খুশি নাটোরের কৃষকরা।"

অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ