দুপক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধ সেচ প্রকল্পের ঘর
সেচ প্রকল্পের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে প্রায় ১মাস যাবত সেচ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ২শতাধিক কৃষকের ১শ একর কৃষি জমির ফসলের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে সেচ বন্ধের জন্য নাটোর বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মতিনকে দায়ী করছেন ভুক্তভুগী কৃষকরা। ঘটনাটি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের চন্দ্রখইর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চন্দ্রখইর গ্রামে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে সেচ ব্যবস্থা চালু ছিলো; যা পরিচালনার জন্য গত দুই বছর আগে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেই কমিটি দায়িত্ব অবহেলার কারণে ফের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয় বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন। স্থানীয় কৃষক আলম মোল্লাকে সভাপতি ও আব্দুর রশিদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৮ সদস্য বিশিষ্ঠ নতুন কমিটি গঠন করা হয়। তবে গঠিত নতুন কমিটির ১৪ জন সদস্যের মতামত না নিয়ে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কতৃপক্ষ কমিটি গঠন করেছে এমন অভিযোগে ১৪ জন কমিটি থেকে অব্যাহতি নেয়।
কমিটির এমন দ্বন্দ্ব নিরসনে সরেজমিনে আসেন নাটোর বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন। সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়ে সেচ প্রকল্পের ঘরের চাবি নিয়ে চলে যান তিনি। ফলে বন্ধ হয়ে পরে সেচ ব্যবস্থা। ফের সেচ কার্যক্রম চালু করতে কৃষকরা স্থানীয় ইউপি সদস্যকে সাথে নিয়ে একাধিকবার বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন প্রকল্পের অফিসে ধর্না ধরলেও কোনো সুফল পাননি।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, সেচ সমস্যা সমাধানের জন্য কৃষকদের সাথে নিয়ে নাটোর বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে তিনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে অজানা কারণে তিনি সাধারণ কৃষকদের কোনো মূল্যায়ন করেন না। বরং তিনি কৃষকদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন।
নাটোর বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন বলেন, পূর্বের কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে তা সমাধানের চেষ্টা করি। সমাধান না হওয়ায় অফিসের নির্দেশনায় সেচ প্রকল্পের ঘরের চাবি নিয়ে আসা হয়। সামাধানের চেষ্টা চলছে, সমস্যা সমাধান করে দ্রুত সেচ কার্যক্রম চালু করা হবে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সময় মত সেচ দিতে না পারায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে সাধারন কৃষক। প্রায় ১শ একর জমির ফসলের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। সাধারন কৃষকদের দাবি, সমস্যা সমাধান করে সেচ কার্যক্রম সচল করতে যেনো দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
