সিংড়ায় জিয়া পরিষদ নেতা কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমকে হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন। ছবি : নাটোরভিউ২৪
সিংড়ায় রেজাউল করিম নামের এক কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত ১১টায় উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত রেজাউল কুমারপাড়ার ছাবেদ আলী ব্যাপারীর ছেলে ও বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি সিংড়া উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য ও ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর কর্মী।
তবে ঘটনার পরই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কুমারপাড়ার মুদি দোকানদার আওয়ামী লীগ কর্মী আব্দুল ওহাবের বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। আর সেই আগুনে মুদি দোকানি আব্দুল ওহাবের মা ছাবিহা বেওয়া’র মৃত্যু হয়। আগুনে টিনের তৈরি সাতটি ছাপরা ঘরও পুরে যায়। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত, সহকারী পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) নুর মোহাম্মদ আলীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নিহত শিক্ষকের কর্মস্থল বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গনে মানববন্ধন করেছেন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সেই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার। বেলা ১২টার দিকে শিক্ষক হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবিতে সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে বিএনপি।
প্রতিবাদ সভায় শহর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন নাটোর-৩ সিংড়া আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু। প্রতিবাদ সভা থেকে জিয়া পরিষদ নেতা কলেজ শিক্ষকের হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম। বিকাল ৩ টায় উপজেলা পরিষদ এলাকায় প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন উপজেলার সর্বস্তরের শিক্ষকরা। প্রতিবাদ সভায় শিক্ষক নেতা অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হারুন অর রশিদের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন জিয়া পরিষদের নাটোর জেলা সভাপতি সাবেক উপাধ্যক্ষ আহমদুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, নাটোর সদর জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার, চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা।
নিহত রেজাউলের ভাতিজা কলম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হায়দার রশিদ রিপন মোবাইল ফোনে জানান, তার চাচা বুধবার রাতে বাজার থেকে বাসায় ফিরে এশার নামাজ ও খাবার শেষে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাটতে বের হন। এ সময় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী প্রায় দেড় ডজন হত্যা মামলার আসামি আব্দুল করিম ও কলম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুন্সি, আওয়ামী লীগ কর্মী আব্দুল ওহাবসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী তার চাচাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে।
তিনি আরও জানান, এলাকায় তার চাচার সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল না। ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আনুর পক্ষে শিক্ষক সমাজকে একত্রিত করার অপরাধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এ হত্যাকে ধামাচাপা দিতে নিজেরাই বাড়িতে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়ে তাদের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। দ্রুত চাচার হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবি করেন তিনি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হোসেন বলেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, নিহত শিক্ষক জিয়া পরিষদ নেতা ও ধানের শীষের একনিষ্ঠ কর্মী। তার মৃত্যুতে শিক্ষক সমাজ ও বিএনপি পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেন তিনি।
সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকের গলা ও কানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা তরা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার ও হত্যার কারণ খুজে বের করতে তদন্ত চলছে।
