অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও অধ্যাপক এএসএম জার্জিস কাদির
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোরের চারটি আসনের মধ্যে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) ও নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে এখন চলছে বিএনপির চরম কোন্দল। দুটি আসনে বিএনপির দুই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দলের তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী। কেন্দ্রের নির্দেশেও তারা ভোটের মাঠ থেকে সরে যাওয়ার কোন সম্ভবনা নেই বলে জানিয়েছেন তাদের অনুসারীরা।
নাটোর-১আসনের বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন ঘোষণা দিয়েছেন তারা ভোটের মাঠ থেকে সরে যাবেন না। আর নাটোর-৩ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী দাউদার মাহমুদ মনে করেন শেষ মুহূর্তে হলেও দল প্রার্থী পরিবর্তন করে তাকেই ধানের শীষ ফিরিয়ে দিবেন। বিএনপির কোন্দলের কারণে আসন দুটিতে জামায়াতে ইসলামীর বিজয় সুনিশ্চিত বলে মাঠে ময়দানে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ মুহূর্তে জামায়াতের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ১০ দলীয় জোট নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেয়ায় নিশ্চিত একটি আসন জামায়াতের হাত ছাড়া হয়েছে বলে মনে করছে আসনের ভোটারেরা।
প্রকাশ্যে বলাবলি ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে লিখেছেন আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেয়ায় জামায়াতের নিশ্চিত একটি আসন যেমন হাত ছাড়া হলো তেমনি ৩০০আসনের মধ্যে বিএনপির প্রথম নিশ্চিত আসন হলো নাটোরের সিংড়া। জেলা পর্যায়ের অনেক গুরুতপূর্ণ সচেতন ব্যক্তি এবং সাংবাদিকরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন মন্তব্য করেছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে স্থানীয় দমদমা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ। আনোয়ারুল ইসলাম আনুর হাতে ধানের শীষ থাকায় তিনি যেমন সুবিধাজনক অবস্থানে ঠিক তেমনি দাউদার মাহমুদের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ থাকায় তিনিও রয়েছেন মজবুত অবস্থানে।
বিএনপির এই দুই প্রার্থীর শক্ত অবস্থানে তাদের অনুসারীদের মধ্যে ইতোমধ্যে একাধিক হামলা মামলার ঘটনা ঘটেছে। দলের ভোট দুই ভাগ হয়ে যাওয়ায় নেতাকর্মীরা পড়েছেন বিব্রতকর অবস্থায়। এমন অবস্থায় জামায়াতে ইসলামী এখানে দলের প্রার্থী করেছিল নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক সাইদুর রহমানকে। ১৯৯১সালের নির্বাচনে এই আসনে জামায়াত থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত জামায়াত নেতা আবু বকর শেরকোলি। বিএনপির চরম কোন্দলের কারণে এখানে এবার জেলা জামায়াতের নেতা অধ্যাপক সাইদুর রহমানের বিজয় সুনিশ্চিত এমন আলোচনা যখন বার মুখে মুখে তখনই এখানে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয় জেলা এনসিপির সদস্য সচিব অধ্যাপক এএসএম জার্জিস কাদিরকে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সখ্য ও আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করা এএসএম জার্জিস কাদিরকে আসনটি ছেড়ে দেয়ায় ভীষন ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা। শুক্রবার বিকেলে জার্জিস কাদিরকে আসনটি ছেড়ে দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধনও করেছে এলাকাবাসী। ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মনে করেন জার্জিস কাদিরকে আসনটি ছেড়ে দেয়ায় তারা তাদের নিশ্চিত একটি আসন হাত ছাড়া করলো।
অপরদিকে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তার বড় ভাই ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। নিজের স্ত্রীসহ ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন আসনটির প্রতিটি গ্রামে সভা সমাবেশ করে প্রচার চালাচ্ছেন। তাইফুল ইসলাম টিপুও বহু আগে থেকে ভোটের মাঠে রয়েছেন ভীষন তৎপর। বিএনপির এই ত্রি-মুখী কোন্দলের কারণে এখানেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের বিজয় সুনিশ্চিত বলে মনে করেন তার অনুসারীরা।
এনসিপি প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ায় আসনটি জোটের হাত ছাড়া হয়ে যাবে মানুষের এমন প্রচারনার বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার সকালে নাটোর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ও নাটোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল মান্নাফ যুগান্তরকে বলেছেন, এমন আলোচনা তিনিও শুনেছেন। সব বিষয় নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়।
নাটোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ড. মীর নুরুল ইসলাম বলেছেন, এটা জামায়াতের নিশ্চিত আসন। ১৯৯১সালে এখানে জামায়াতের এমপি ছিল। তাদের সংগঠনও এখানে মজবুত। ১০দলীয় জোট এনসিপির যাকে এখানে মনোনয়ন দিয়েছে অতীতের নানা কর্মকাণ্ডের জন্য তার পক্ষে লোকজন কাজ করতে আগ্রহী না। তাকে বিজয়ী করা সম্ভব হবে না। এখনো যেহেতু সময় আছে তাই জোটের শীর্ষ নেতাদের আসনটির বিষয়ে পুনঃবিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ বলেছেন, যত সমস্যাই থাক না কেন ভোটের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তা সমাধান করে ফেলতে সক্ষম হবেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের পক্ষেই অবস্থান নিবেন বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।
