সিংড়া পৌর শহরের চলনবিল গেট এলাকায় ছিনতাই বেড়ে গেছে। ছবি : নাটোরভিউ২৪
সিংড়ায় মানকি টুপি ও মাস্ক পরে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। হঠাৎ চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর এসব ঘটনায় থানায় মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করেও কোন অগ্রগতি ও চুরি-ছিনতাই বন্ধ না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চুরি-ছিনতাই আতঙ্কে বসবাস করছে। দ্রুত উর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।
নতুন বছরের শুরুতেই গত ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫ টায় দিকে সিংড়া চলনবিল গেইটের পূর্বে রাস্তায় কলা গাছ ফেলে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় অটো চালক মনির হোসেন ও রেজভি আহমেদ এবং ডাহিয়া গ্রামের জাহিদ নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় মানকি টুপি পরিহিত (মুখ ঢাকা) ছিনতাইকারীরা।
৭ জানুয়ারি উপজেলা কুমগ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা তালুকদারের বেলকুনির লোহার গ্রিল কেটে বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি হয়। এতে ওই কৃষকের নগদ পাঁচ লাখ টাকা, ছয় ভরি স্বর্ণালংকার সহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি হয়ে যায়। ১৯ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগও করেন। একই রাতে সিংড়া থানার পাশের রোডে দাস জুয়েলার্সে দুর্ষর্ধ চুরি সংগঠিত হয়। জুয়েলার্সের পেছন গেট কেটে দোকাকে সাজানো সকল স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায় মাস্ক পরিহিত সংঘবদ্ধ চোর চক্র।
১১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের নিমাকদমা-স্থাপনদিঘী সড়কের গোয়ালবাড়িয়া দ্বিতীয় ব্রীজের কাছে জিএস এগ্রোকেয়ার ঔষধ কোম্পানির এসআর সোহাগ হোসেনের মোটর সাইকেল বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে হাত-পা বেঁধে মারধর ও তার কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।
১২ জানুয়ারি রাত ১ টার দিকে চৌগ্রাম ইউনিয়নের টাওয়ার বাজার এলাকায় স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী রতন মৃধা দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের হাসুয়া ও ছুরি কাঘাতে গুরুতর আহন হন। ছিনতাইকারীরা ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ তিন লাখ টাকা তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। পরে পুলিশ ফাঁড়ির মোবাইল পার্টির সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। একই রাতে উপজেলার লালোর ইউনিয়নের ডাকমন্ডপ বাজারের শামীম হোসেনের ইলেকট্রনিক্স দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি হয়। এতে ওই ব্যবসায়ী প্রায় দশ লক্ষাধিক মূল্যের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী চুরি যায়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে সিংড়া পৌর শহরের ব্যস্ততম সিংড়া বাসস্ট্যান্ড-টু-মাদ্রাসা মোড়ের সিংড়া গোল-ই-আফরোজ সরকারি কলেজ গেট এলাকায় মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ ও নাটোর গামী এক মেয়ে ও ছেলের রিক্সার গতিরোধ করে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন সহ বিভিন্ন সামগ্রী ছিনিয়ে নেয় মানকি টুপি পরিহিত ছিনতাইকারীরা। একই রাতে উপজেলার সাতপুকুরিয়া ও হিজলী মাঠে পাঁচ কৃষকের ২৫ কেভি তিনটি ট্রান্সফরমার ও একটি সেচ মোটর চুরি হয়ে যায়। এতে বিলের কৃষকরা চুরি আতঙ্কে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও সম্প্রতি সিংড়া পৌর শহরের চাঁদপর, নিঙ্গইন সহ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচটি আটোভ্যান গাড়ী ও চারটি মোটর সাইকেল চুরি সহ আরো বেশ কয়েকটি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় অপরাধীরা ছিল মানকি টুপি, মাস্ক ও মাফলার দিয়ে মুখ ঢাকা। ধারালো অস্ত্রে জিম্মি করে এসব চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানা গেছে।
হিজলী গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, তার সেচ মোটর ও ট্রান্সফরমার এক সাথে চুরিতে বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। বিলের কৃষকদের মাঝে চুরি আতঙ্ক বিরাজ করছে। চুরি বন্ধ না হলে কৃষির বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেন।
সিংড়া আড়তের মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ মুঠোফোনে বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় আড়তে যাওয়ার সময় হঠাৎ রাস্তায় মানকি টুপি পরিহিত এক ব্যক্তি তাকে চটলাইট ধরেন। পরে আরো একই টুপি পরিহিত আরো তিনজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে জিম্মি করে নগদ সাড়ে ১২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তার সামনেই এক রিক্সার গতিরোধ করে মেয়ে ও ছেলে যাত্রীদের জিম্মি করে ছিনতাইকারীরা। ব্যস্ততম এলাকায় এভাবে ছিনতাই হবে কখনো তিনি কল্পনাই করেননি।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসম আব্দুর নুর বলেন, হঠাৎ করেই চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। বৃহৎ এই উপজেলার জন্য পুলিশ সদস্য ও যানবাহনের স্বল্পতা রয়েছে। তারপরও চুরি-ছিনতাই ও অপরাধ রোধে চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, দ্রুত চুরি-ছিনতাই রোধে পাহারাদার (নাইটগার্ড) বাড়ানো সহ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। বাজারের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।
