মালয়েশিয়ায় দুর্বৃত্তের হাতে নিহত বড়াইগ্রামের কবির


প্রবাসে নাটোর বড়াইগ্রাম

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি

(৪ মাস আগে) ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, বুধবার, ৬:০৫ অপরাহ্ন

natoreview

মালয়েশিয়ায় দুর্বৃত্তের হাতে নিহত নাটোরের বড়াইগ্রামের যুবক কবির হোসেন। নাটোর ভিউ২৪

সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন কবির হোসেন (৩৮)। কিন্তু সেখানেই কর্মরত অবস্থায় দুর্বৃত্তের হাতে লাশ হলেন তিনি। মালয়েশিয়ার চামানডাইয়া উতিরাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার ভোরে বাড়িতে তার মৃত্যুর খবর এলে বুক ফাটা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। এ সময় প্রতিবেশীসহ আত্মীয়-স্বজন খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে ছুটে আসেন। তাদের আর্তনাদ আর কান্নায় স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্রাম। নিহত কবির হোসেন নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর কইল্লীপাড়া গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে। পরিবারে স্ত্রী ও এক ছেলে রয়েছে তার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে কাজের জন্য মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন কবির। এরপর সেখানে কেসিএল নামে এক কোম্পানিতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ শুরু করেন। সামনে জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখে দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কেনাকাটাসহ দেশে আসার অন্যান্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে শেষ কথা হয় ওই প্রবাসীর। এরপর রাতে কারখানায় দায়িত্বরত অবস্থায় দুর্বৃত্তরা হাত-পা ও মুখ বেঁধে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। বুধবার ভোর চারটার দিকে মালয়েশিয়া থেকে তার পরিচিত একজন ব্যাক্তি মোবাইলে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর সংবাদ জানান। 
নিহত কবিরের একমাত্র ছেলে সোহাগ হোসেন বলেন, আমার বাবার সামনের মাসে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তার দেশে ফেরার আশায় আমরা অনেক আনন্দে ছিলাম। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল। গতরাতে ডিউটিরত অবস্থায় আমার বাবাকে কে বা কারা খুন করেছে। এ সময় কান্নাজড়িত কন্ঠে সোহাগ তার বাবার লাশটি যেন দ্রুত তাদের কাছে পাঠানো হয় সরকারের কাছে সে দাবি জানান। 
বুক চাপড়ে কাঁদতে কাঁদতে স্ত্রী শিউলি বেগম বলেন, রাত ৯ টায় আমাকে তিনি ফোন করেন, কিন্তু আমার বুকে ব্যথায় বেশি কথা বলতে পারিনি। ব্যাথা কমলে ফোন দিতে বলেছিলেন। পরে কল দিলে আর পাইনি। আমার স্বামীকে কে মারল, এমন শক্র কে? আমি তার বিচার চাই।
ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এমন সংবাদে আমরা খুবই শোকাহত। পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে আমি সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছি। যে কোনো প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন তার পরিবারের পাশে থাকবে।