করোনার প্রভাবে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়েছে নাটোরের কয়েকটি ঔষধি গ্রাম। এখানকার উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৫ হাজার চাষি। ক্রেতা না থাকায় কোটি কোটি টাকার ঔষধি পণ্য ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছে চাষিরা। চলতি মৌসুমে এসব পন্য বিক্রি করতে না পারায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা
নাটোর জেলার তিন ইউনিয়ন জুড়ে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয় এলোভেরা, শিমুল মূল, অর্শ্বগন্ধাসহ প্রায় ২২ প্রকারের ভেষজ উদ্ভিদ। এদিকে লাখ টাকা খরচ করে উৎপাদিত এসব ফসল বিক্রি করতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।
এই গ্রামের চাষি মুর্শিদ আলি জানায়, ১০ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন এলোভেরার চাষ কিন্তু ক্রেতা না থাকায় গাছ বাঁচাতে উৎপাদিত ফসল ফেলে দিতে হচ্ছে পরিত্যক্ত হিসেবে। এতে করে প্রতিদিন লোকসান গুনছেন তিনি।
এলাকার আর এক চাষি জানিয়েছেন এই পরিস্থিতিতে বিক্রি করতে না পারায় উৎপাদিত সব ঔষধি গাছ ভাগাড়ে ফেলে দিতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় শ্রমিকের মজুরি দেয়ার সাধ্য নেই, নিজে যে পরিবার নিয়ে চলবো সেটাই মুশকিল হয়ে পড়ছে।
এদিকে চাষিদের পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছে বিভিন্ন শ্রমিক , হকার, আড়ৎদার সহ ব্যবসায়ীরা। এই সংকটকালীন সময়ে সরকারের কাছে বিনা সুদে ঋণসহ বিভিন্ন প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে এই এলাকার চাষিরা।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ভেষজ ঔষধ বিক্রি একদম নেই বললেই চলে। যেসকল কোম্পানি ভেষজ উদ্ভিদ নিতো তারাও আর কিনতে আসছেনা ফলে প্রতিদিন লোকসান গুনছে হচ্ছে।
নাটোর ঔষধি গ্রাম সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মাস্টার জানিয়েছে এইও করোনাকালীন সংকটময় মুহুর্তে ঔষধি চাষি থেকে শুরু করে হকার ব্যবয়ায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেন।
নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার বলেন, এই পরিস্থিতি পন্য বিক্রি করতে না পেরে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চাষিদের এই লোকসান লাঘবে কিভাবে প্রণোদনা দেয়া যায় তা নিয়ে আমাদের ভেবে দেখা উচিৎ বলেও তিনি জানিয়েছেন।
