সিংড়ার জামতলি-বামিহাল সড়ক যেন মরণ ফাঁদ!


সিংড়া

সিংড়া প্রতিনিধি

(১০ মাস আগে) ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার, ৭:০৩ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৫:৪৮ অপরাহ্ন

natoreview

সিংড়ার জামতলি-বামিহাল সড়ক। ছবি : নাটোরভিউ২৪

সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ জামতলি-বামিহাল রাস্তা যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই রাস্তার খালা-খন্দ ও কাঁদা-পানিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লক্ষাধিক মানুষ। রাস্তাটি ইতিমধ্যে যোগাযোগের অনুপোযোগী হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থায়ও। যদিও এই রাস্তার ৯ কিলোমিটার সংস্কার কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগে একাধিকবার কাজ বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ। তারপরও ক্ষমতা দাপট দেখিয়ে ধুলো-বালি মিশ্রিত ইটের খোয়ার উপর বিটুমিন (প্রাইম কোট) ছাড়াই যত্রতত্র ভাবে কার্পেটিং করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ফলে কাজ শেষ না হতেই অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে যায়। এই রাস্তার রাতাল বাজার হতে মৌগ্রাম এক কিলোমিটার এলাকায় কার্পেটিং উঠে খালা-খন্দ ও কাঁদা-পানিতে দীর্ঘ দিন ধরে চলাচলে জন দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই খালা-খন্দে যানবাহন উল্টে দূর্ঘটনা এবং জন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এলাকার পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীরা।
এদিকে কাজের শুরুতেই ‘সাড়ে সাত কোটি টাকায় নিম্নমানের সংস্কার’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর সেই রাস্তার কাজ পরিদর্শন করে সত্যতা পায় দুদক এর রাজশাহীর তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এরপরও ধুলো-ময়লার ওপর বিটুমিন ছাড়াই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ২০২৩ সালের শেষের দিকে কার্পেটিং কাজ শেষ করে লাপাত্তা হন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে উপজেলার জামতলী-বামিহাল-রাণীরহাট ৯ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পান ঢাকার হাজারিবাগ এলাকার এমসি-জেএসএসি (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই কাজের ব্যয় ধরা হয় সাড়ে সাত কোটি টাকা। তবে কাজটি জেভি প্রতিষ্ঠান না করে নাটোরের ইউসুফ আলী সরকার নামে এক ঠিকাদার এই কাজটি করেন। আর এই কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল আলম। নিম্নমানের কাজের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে সতর্কও করেন উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মেদ রফিক। কিন্তু ক্ষমতার দাপন আর প্রভাব খাটিয়ে কোন কর্ণপাত না করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করেন ঠিকাদার ইউসুফ আলী সরকার।

স্থানীয় শিক্ষক হাসিবুল হাসান বলেন, এই রাস্তা দিয়ে বামিহাল উচ্চ বিদ্যালয়, রহমত ইকবাল অনার্স কলেজ, বামিহাল টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বামিহাল দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা সহ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চলাচল করেন। বর্ষা এলেই এই রাস্তায় যানবাহন উল্টে দূর্ঘটনায় আহত ও নিহতের মতো ঘটনা ঘটে। খালা-খন্দে যানবাহন আটকে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

বামিহাল কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ইউসুফ আলী বলেন, রাতাল থেকে মৌগ্রাম পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। প্রতিদিনই ছোট-বড় যানবাহন উল্টে যোগাযোগ বিছিন্ন থাকে। এই কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।  

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. শিবলী নোমান শুভ বলেন, তার বাড়ি বামিহাল এলাকায়। উপজেলার সবচেয়ে জনদুর্ভোগের একমাত্র রাস্তার নাম জামতলি-বামিহাল। এই রাস্তার কথা শুনলে ভয়েই কোন যানবাহন যেতে চায় না। এলাকার গর্ভবতী মহিলা ও অসুস্থ্য রোগীরা হাসপাতালে আসতে না পারায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সুকাশ ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল জলিল বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা দিয়ে সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম, ইটালী, ডাহিয়া, শুকাস ইউনিয়ন ছাড়াও পাশবর্তী শেরপুর, বগুড়া, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ সহ রাজধানী ঢাকা শহরে যেতে জনগণ এই রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকেন। কৃষি ও ব্যবসা বান্ধব হিসেবে পরিচিত এই রাস্তা দিয়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করেন। রাস্তার বেহাল দশায় কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে। দ্রুত রাস্তাটি স্থায়ী মেরামতের দাবি জানান।

এদিকে ঠিকাদার ইউসুফ আলী সরকারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

উপ-সহকারী প্রকৌশলৗ শহিদুল আলম বলেন, রাস্তার খালা-খন্দে ইটের গুড়ি দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত আটকে রাখা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মেদ রফিক বলেন, ওই রাস্তার কিছু অংশে কার্পেটিং উঠে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। মূলত বৃষ্টি ও মাছের ট্রাকের পানি জমে এই সমস্যার সৃষ্টি। তাছাড়া এই রাস্তা নির্মাণের শুরুর দিকে মান খারাপ করা হয়েছে। এরপর থেকে যত উপরে কাজ হচ্ছে সঠিক হচ্ছে না। উল্লেখিত জায়গায় সিসি ঢালাইয়ের বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।