বাগাতিপাড়ায় লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান থাকলেও নেই ব্যারিয়ার-ডিউটি ঘর


বিশেষ সংবাদ বাগাতিপাড়া

বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি

(১০ মাস আগে) ২১ আগস্ট ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ৬:০৩ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৯:১০ অপরাহ্ন

natoreview

বাগাতিপাড়ার ঠেঙ্গামারা লেভেল ক্রসিংয়ে নেই ব্যারিয়ার ও ডিইটি ঘর। দুই গেটম্যান ছয় বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার তোলা। ছবি : নাটোরভিউ২৪

বাগাতিপাড়ায় লেভেল ক্রসিংয়ে জনবল নিয়োগ থাকলেও নেই ব্যারিয়ার (প্রতিবন্ধক) ও ডিউটি ঘর। ফলে উন্মুক্ত রেলগেটেই দুই গেটম্যান ছয় বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলার সদর ইউনিয়নের আব্দুলপুর-নাটোর রেলপথের ঠেঙ্গামারা রেলগেটে এমন চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার দুপাশ দিয়ে বয়ে চলা রেলপথে ১০টি লেভেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার সীমানায় আব্দুলপুর-নাটোর রেলপথে পাঁচটিতে জনবল নিয়োগ রয়েছে। অপরদিকে আব্দুলপুর-আড়ানী রেলপথের পাঁচটির সবগুলোই অরক্ষিত। এই লেভেলক্রসিংগুলোর মধ্যে ঠেঙ্গামারা রেলগেটে জনবল নিয়োগ করা হলেও নির্মাণ করা হয়নি ডিউটিঘর, স্থাপন করা হয়নি গেটের উভয়দিকের ব্যারিয়ার (প্রতিবন্ধক)। ফলে নিয়োগের পর থেকে  ছয় বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি-ঝড় মাথায় নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন গেটম্যান সাইফুল ইসলাম ও আফসার উদ্দিন সোহাগ।

তারা জানান, ২০১৯ সালে ওই রেলগেটের জন্য তিনজন গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু গেটটিতে ডিউটিঘর বা ব্যারিয়ার কিছুই নির্মাণ করা হয়নি। রোদ, ঝড় কিংবা বৃষ্টিতে বসার জায়গা বলতে গাছতলা বা পাশের চা স্টলই ভরসা। গেটম্যানদের বসার জন্য এর আগে বাঁশের মাচা বানানো হলেও তা অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়াও লেভেল ক্রসিংয়ের পাশে রয়েছে বাজার, স্কুল ও কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিদিন শত শত মানুষ ও শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হন। ব্যারিয়ার না থাকায় ট্রেন আসার সময় যানবাহন থামাতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের।

এদিকে তিন জন গেটম্যানের মধ্যে ইতোমধ্যে একজন চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে গেছেন। এখন দুইজনকে ১২ ঘণ্টা করে ডিউটি করতে হয়। তারা দ্রুত ডিউটি ঘর ও ব্যারিয়ার স্থাপনের দাবি জানান। স্থানীয়রা জানান, রেলগেটটিতে গেটম্যানরা শুধু পতাকা এবং বাঁশি নিয়ে ডিউটি করেন। ট্রেন পার হওয়ার সময়ও গেট খোলা থাকে। এতে রেলগেটটিতে দুর্ঘটনার শংকা রয়েছে। তারা দ্রুত ব্যারিয়ার স্থাপন চান।

গেটম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, নিয়োগের পর থেকে চাকরি জাতীয়করণ হয়নি। যে বেতনে ঢুকেছেন, এখনও সেই বেতনেই কাজ করছেন। এদিকে গাছতলায় বসে থেকে ১২ ঘন্টা করে ডিউটি করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।