গুরুদাসপুরে রাস্তার গাছ কেটে স্থাপনা নির্মাণ


গুরুদাসপুর গুরুদাসপুর

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি

(২ দিন আগে) ২১ জুন ২০২৬, রবিবার, ৬:২৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৬:৫৭ অপরাহ্ন

natoreview

গুরুদাসপুরে সরকারি সড়কের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ছবি : নাটোরভিউ২৪

গুরুদাসপুরে সরকারি সড়কের গাছকেটে সেখানে দোকানঘর নির্মান করার অভিযোগ উঠেছে আবু সাইদ  নামে এক ব্যক্তি বিরুদ্ধে। উপজেলার চাঁচকৈড়-বিলদহর (সিংড়া) সড়কের উপজেলার দূর্গাপুরে ওই ঘটনা ঘটেছে।

গেল শুক্রবার সড়কের চারটি তাল গাছ দুইটি শিমুল ও অন্য প্রজাতির ৪টিসহ ১০টি গাছ কেটে সেখানে দোকান ঘর নির্মান করছেন অভিযুক্ত আবু সাইদ। রোববার পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আইনে বলা আছে, সরকারি অনুমতি ছাড়া বন, সড়ক বা সরকারি জায়গার গাছ কাটা আইনত দ­নীয় অপরাধ। ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত গাছ কাটলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে বনায়নের শাস্তির বিধান রয়েছে। এছাড়া, সাধারণ সরকারি গাছ কাটলে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদ­ বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার নিয়ম কার্যকর রয়েছে।

কিন্তু সরকারি আইন উপেক্ষা করে অভিযুক্ত আবু সাইদ সড়কের গাছ কেটে সেখানে স্থাপনা নির্মান করছেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখাগেছে,  সড়কটির পশ্চিমপাশের গাছগুলো কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। একই সাথে চলছে স্থাপনা নির্মানের কাজ। কমপক্ষে ১০জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছেন। কেটে ফেলা গাছগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে কথা হয় অভিযুক্ত আবু সাইদের সাথে। তার ভাষ্য তার পুকুরের সামনের সড়কে গাছগুলো রোপন করা হয়েছে।  একটি দোকান করার জন্য গাছগুলো  কাটতে হয়েছে। এজন্য  বনবিভাগের অনুমোদন নেননি তিনি। তবে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান আবু সাইদ।

উপজেলা বন কমকতা আবুল কাশেম জানান, ২০০০ সালের দিকে  সুবিধাভোগী ও বনবিভাগের যৌথ উদ্যোগে  সড়কটির উভয়পাশে কমপক্ষে ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নানা প্রজাতির গাছ রোপন করা হয়। দীঘ বছরে রোপন করা গাছগুলো অনেক বড় ও পরিপক্ক হয়ে উঠেছে।

চুক্তির নির্ধারিত সময়ের পর বনবিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে গাছগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের লভ্যাংশ বুঝিয়ে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অসুস্থতা জনিত কারনে ছুটিতে থাকায় বিষয়টি জানা নেই তাঁর। তবে আগামীকাল সোমবার (২২ জুন) কর্মস্থলে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন তিনি।

বনবিভাগের সুবিধাভোগী দিল মোহাম্মদ বলেন, পানিউন্নয়ন বোর্ডের সড়কটিতে বনবিভাগের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নানা প্রজাতির গাছগুলো রোপন করা হয়েছে। গাছ বিক্রির ৫৩ভাগ পাবেন সুবিধাভোগীরা। কিন্তু এক শ্রেনির মানুষ নানা অজুহাতে সড়কে রোপন করা গাছগুলো কেটে নিয়ে  যাচ্ছেন। বনবিভাগ এবিষয় গুলো কোন গুরুত্ব না দেওয়ায় উজার করে ফেলেছে অসাধু লোক। গাছকাটা ব্যক্তিদের শাস্তি দাবী করেন তিনি।

এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন বিষয়টি জানা নেই তার। তবে সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠাবেন। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন তিনি।