প্রাথমিকের ক্ষুদে খেলোয়াড় বাগাতিপাড়ার কণা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে


খেলাধুলা বাগাতিপাড়া

বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি

(৮ মাস আগে) ২৩ জুলাই ২০২৫, বুধবার, ১০:২৯ অপরাহ্ন

natoreview

বাগাতিপাড়ায় নিজ বাড়ির সামনে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’র সম্মাননা হাতে কণা আক্তার। ছবি : নাটোরভিউ২৪

অজপাড়াগাঁয়ে দারিদ্রের সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় কুঁড়ে ঘরে বেড়ে উঠা কণা আক্তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন ক্ষুদে খেলোয়াড় হিসেবে খেলাধূলায় অংশ নিতেন। অদম্য মনোবল আর দুরন্ত প্রতিভায় সেই কণা আক্তারের স্বপ্ন ছুঁয়েছে আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। সাহস আর সংকল্পের জোরে আজ বাংলাদেশের জাতীয় হকি দলে জায়গা করে নিয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ হকি টুর্নামেন্টে (অনূর্ধ্ব-১৮) দেশের পক্ষে অংশ নিয়ে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। অসাধারন নৈপূণ্যে তিনি এই পুরস্কার লাভ করেন। তিনি এখন হকি দলের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা।

কণা আক্তারের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া সান্যালপাড়া গ্রামে। তিনি দিনমজুর আবু বক্কর ও মা চামেলী বেগম দম্পতির মেয়ে।

সরেজমিনে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠোন কাদায় ভরপুর। দুটি কুঁড়ে ঘর। টিনের চালার ঘর দুটিতেই পরিবারের ৬ সদস্য থাকেন। মাটির এই ঘরে নেই তেমন কোন আসবাবপত্র। এরমধ্যেই যত্রতত্র রাখা হয়েছে মেডেল, বিভিন্ন ক্রেস্টসহ অন্যান্য পুরস্কার। সেখানে কথা হয় কণা ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। তারা জানালেন, কণা স্কুল জীবনে সান্যালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিতেন। উপজেলা থেকে জেলা পেরিয়ে বিভাগীয় পর্যায়েও পৌঁছেছিলেন। সেসময় স্কুলের শিক্ষক কামরুল ইসলামের অনুপ্রেরণায় ২০২১ সালে রাজশাহীতে বিকেএসপির (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) ট্রায়ালে অংশ নেন কনা। ধার করা এক হাজার টাকা নিয়ে সেখানে গিয়ে হকি, জিমন্যাস্টিকস ও ফুটবলে অংশ নিয়ে একসঙ্গে তিনটি খেলাতেই নির্বাচিত হন। হকি এবং জিমন্যাস্টিকস-এ প্রথম এবং ফুটবলে ২৩ তম স্থান লাভ করেন। এরমধ্যে বেছে নেন হকি। পরিবারের শেষ সম্বল ছাগল ও হাঁস বিক্রি করে কনা ভর্তি হয় বিকেএসপিতে। বিকেএসপিতে ভর্তির দুই বছর পরই অনুর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপ জুনিয়র টুর্নামেন্ট খেলতে দেশের বাইরে যান কণা। এরপর ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুর ও ওমানে গিয়ে আরও দুবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সবশেষ চলতি ২০২৫ সালে চীনের দাজহুতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকিতে অংশ নেয় বাংলাদেশ। ৭ টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ২টিতে প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন দলের সর্বকনিষ্ঠ প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়।

মা চামেলী বেগম বলেন, মেয়ের সাফল্যে তিনি গর্বিত। শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, কণার প্রতিভা দেখে তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছেনমাত্র। তবে ওর পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। বিকেসপিতে এখনো ১২ মাসের টাকা বাকি। কনা আক্তার জানান, দেশের হয়ে খেলতে পারাটা অনেক বড় সম্মানের। আমি চাই আরও ভালো খেলতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করতে। তিনি সবার দোয়া চান। 
এ বিষয়ে নবাগত ইউএনও মারুফ আফজাল রাজন বলেন, কণা আক্তার একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়। তার এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানাই। তার সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন পাশে রয়েছে। সম্প্রতি একটি বাড়ির জন্য আবেদন করেছে, সেই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ