ক্রিকেটার হিসেবে এই চ্যালেঞ্জটুকু তো আমাকে নিতেই হবে: তাইজুল


খেলাধুলা

এনভি ডেস্ক

(২ বছর আগে) ৩ জুন ২০২৩, শনিবার, ১০:১৭ অপরাহ্ন

natoreview

তাইজুল ইসলাম

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পান তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসেই পেয়ে যান টেস্টে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেটের স্বাদ। আচরণগত সমস্যায় ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ হওয়া সাকিবকে ছাড়াই সেই ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এই অলরাউন্ডার ছাড়া দলের স্পিন আক্রমণের নেতৃত্বও যেন উঠে গিয়েছিল তাইজুলের কাঁধেই।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে সাকিব আল হাসানকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। চোটে থাকা এই অলরাউন্ডারের জায়গায় আগামী ১৪ জুন থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে স্বাগতিক দলের স্পিন আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা তাইজুল ইসলামের। সে প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা শুরুতেই যেন থামিয়ে দিতে চাইলেন এই বাঁহাতি স্পিনার, ‘এটি নতুন কিছু তো নয়।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সাড়ে আট বছর পেরিয়ে আসা এই ক্রিকেটার পেছন ফিরে এমন আরো অনেক উদাহরণই খুঁজে পাচ্ছেন, যখন সাকিব ছিলেন না।এমনকি সাকিবের সঙ্গে খেলতে শুরু করার আগেও খেলেছেন সে রকম টেস্ট ম্যাচ। তাইজুলের টেস্ট অভিষেকই যেমন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পান তিনি। প্রথম ইনিংসেই পেয়ে যান টেস্টে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেটের স্বাদ।
আচরণগত সমস্যায় ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ হওয়া সাকিবকে ছাড়াই সেই ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এই অলরাউন্ডার ছাড়া দলের স্পিন আক্রমণের নেতৃত্বও যেন উঠে গিয়েছিল তাইজুলের কাঁধেই। সেই ম্যাচে অন্য স্পিনারদের (শুভাগত হোম, মাহমুদ উল্লাহ, নাসির হোসেন ও মমিনুল হক) কেউই তো আর সেই অর্থে বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছিলেন না।
কাজেই অক্লান্তে হাত ঘুরিয়ে যেতে হয় তাইজুলকে।

বোলিং করেন ৪৭ ওভার। সাকিবের অনুপস্থিতিতে স্পিন আক্রমণের জোয়াল তুলে নেওয়ার ঘটনা আছে আরো। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সফরেও নিরাশ করেননি। একই বছরের নভেম্বরে চট্টগ্রামে পাকিস্তানের বিপক্ষেও টেস্টের প্রথম ইনিংসে নেন ৭ উইকেট। সাকিব না থাকলেও তাঁর শূন্যতা অনুভূত হতে না দেওয়া বোলিং যেহেতু আগে বেশ কয়েকবারই করেছেন, তাই নতুন করে টেস্ট অধিনায়কের না থাকার আলোচনায় তাঁকে টেনে আনার মানেও খুঁজে পান না তাইজুল, ‘ক্রিকেটার হিসেবে এই চ্যালেঞ্জটুকু তো আমাকে নিতেই হবে।
কারণ এত দিন ধরে খেলছি, যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, এই প্রশ্নগুলো আপনারা মাঝেমধ্যেই বিভিন্নজনে করে থাকেন। অনেক দিন থেকেই শুনি। কেন এই প্রশ্ন করেন, আমি তো বুঝি না।’
এ রকম পরিস্থিতিতে নিজেকে মেলে ধরতে না পারার বিষয়টিকেও আবার দেখেন ব্যর্থতা হিসেবেই, ‘অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিব ভাইয়ের অনেক বড় অবদান। উনি এখনো দিয়ে যাচ্ছেন। এটি তো অস্বীকার করার কিছু নেই। প্রমাণিত একটি ব্যাপার। সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে থেকে আমি যেটুকু শিখেছি বা ওনার কাছ থেকে যেটুকু নিতে পেরেছি, এখন আমি আট বছর খেলার পরও যদি ওগুলো প্রয়োগ করতে না পারি, তাহলে সেটি আমার জন্য ব্যর্থতাই।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্টেও তাই নিজের সাফল্য দিয়ে দলকে রাঙাতে চান, ‘আমার কাছে এটিকে কোনো বাড়তি চাপ মনে হয় না। এটিকে একটি সুযোগই মনে হয় আমার।’ সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে তাঁর পাশে থাকবে এ রকম পরিস্থিতির পূর্ব অভিজ্ঞতাও, ‘আমার মানসিকতা ভালোই থাকে। বিগত দিনগুলোতে এর প্রমাণও নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন। এমনও তো হতে পারত যে আমি ভালো করিনি বা নিজেকে প্রমাণ করতে পারিনি। (এ রকম পরিস্থিতিতে বোলিং করা) আমি বরং উপভোগই করি।’ আফগানদের বিপক্ষে সাফল্য দিয়ে সেই উপভোগের মাত্রা আরো বাড়িয়ে নিতে পারবেন তাইজুল?

খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ