দেশের মধ্যে বড়াইগ্রামে প্রথম চালু হচ্ছে

বৃষ্টির মতো উপর থেকে জমিতে দেওয়া হবে পানি


বড়াইগ্রাম

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি

(৬ মাস আগে) ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার, ৬:৪২ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৫:২০ অপরাহ্ন

natoreview

বড়াইগ্রামে আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সেন্টার পিভোট ইরিগেশন সিস্টেম। ছবি : নাটোরভিউ২৪

দেশের মধ্যে বড়াইগ্রামে প্রথমবারের মতো আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সেন্টার পিভোট ইরিগেশন সিস্টেমের সফল যাত্রা শুরু হয়েছে। যুগ যুগ ধরে মাটির নিচ থেকে পাইপের মাধ্যমে জমিতে পানি সেচ দেওয়া হয়। কিন্তু এবার আধুনিক এ পদ্ধতিতে পাইপের সঙ্গে যুক্ত স্প্রিংকলারের মাধ্যমে উপর থেকে বৃষ্টির মতো সেচ দেওয়া হবে। অস্ট্রিয়ার কারিগরি সহায়তায় ও কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পানাসি প্রকল্পের আর্থিক সহযোগিতা বড়াইগ্রামের ভবানীপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ইক্ষু খামারে বাস্তবায়ন হচ্ছে অত্যাধুনিক এ সেচ প্রকল্প। পরীক্ষামূলক সেচ প্রদান শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে খামার কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর করা হবে।

গত ২ জানুয়ারি নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের আওতাভূক্ত ভবানীপুর ও মুলাডুলি কৃষি খামারে এ পদ্ধতি স্থাপন কাজ শুরু হয়। পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি প্রকল্পে তিন কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে অস্ট্রিয়ার বায়ার কোম্পানির সহযোগিতায় এই পাইলট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শেরপা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে কাজ করছে। প্রকল্পটিতে চীনের মিস্টার জ্যাক এবং অন্যজন ভিয়েতনামের মিস্টার খোয়া নামে দুজন বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিগত তত্ত্বাবধান ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রকল্প দুটির মধ্যে বড়াইগ্রামে ইতিমধ্যে কাজ শেষ হলেও ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইক্ষু খামারে কাজ চলমান রয়েছে।
এ প্রযুক্তিতে একটি প্রকল্পে একসঙ্গে ১২৫ একর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। বড় আকারের কৃষিজমিকে কম সময় ও কম পানি ব্যবহার করে সেচ দেওয়ার এ আধুনিক ব্যবস্থা দেশের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সজীব আল মারুফ বলেন, সুগার মিলের কৃষি খামারে আধুনিক সেচব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একসঙ্গে অনেক জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। সনাতন পদ্ধতিতে কৃষকরা মাঠে যে গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দেন, তাতে জমির প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পানি দেয়া হয়। এতে পানির অপচয় হয়। তিনি বলেন, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেচ দিলে কম খরচে স্বল্প সময়ে একসঙ্গে অনেক জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব। এতে পানির অপচয়ও কম হবে। সারা বছর পানি পাওয়া যাবে। এটি কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দেশে প্রথম নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের আওতাধীন বড়াইগ্রামের ভবানীপুর কৃষি খামারে সেন্টার পিভোট ইরিগেশন সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এখানে এক কোটি ৯৮ লাখ পাঁচ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হয়েছে। পানি সাশ্রয়ী সবচেয়ে আধুনিক সেচ প্রযুক্তি এটি। এ পদ্ধতিতে কৃষক খুব অল্প খরচে সেচ সুবিধা পাবেন।
বিএডিসির পাবনা রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ জানান, এ পদ্ধতিতে চাকার সাহায্যে বৃত্তাকারে জমিতে ঘুরে ঘুরে বৃষ্টির ফোটার মত পানি সেচ দেয়া হবে। এ সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে উঁচুনিচু জমিতে সমানভাবে পানি সরবরাহ করা যায়। ফলে ফসল উৎপাদন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ভবানীপুর খামারের ইনচার্জ মাহাবুব-উল ইসলাম বলেন, এ খামারে মোট ৭০১ একর জমি রয়েছে। তার মধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় ১২৫ একর জমিতে সেচ দেয়া হবে। আগে যেখানে সেচ দিতে দুই দিন লাগত সেখানে এই পদ্ধতিতে কয়েক ঘণ্টায় কাজ শেষ করা যাবে। ফলে আগে প্রতি একরে গড়ে দুই জন করে ১২৫ একর জমিতে ২৫০ জন শ্রমিক দিয়ে ৬০ থেকে ৬২ দিনে পানি সেচ দিতে হতো। বর্তমানে এ পদ্ধতিতে মাত্র ৬০ জন অপারেটর দিয়ে পাঁচ থেকে ছয় দিনে সমপরিমাণ জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের জিএম (কৃষি) বাকী বিল্লাহ বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এ পদ্ধতিতে সেচ দেয়া অনেক সাশ্রয়ী। এতে খামারের প্রায় ২০ একর পতিত জমি ফসলি জমিতে রূপান্তর হবে। এছাড়া সুগার মিলে বর্তমান আখের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে একর প্রতি ১৫-১৭ মেট্রিক টন। এ ধরনের উন্নত প্রযুক্তির সেচ পদ্ধতি চালু হলে ৩০-৩৫ মেট্রিক টন আখ উৎপাদন সম্ভব হবে।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো এ আধুনিক সেচ ব্যবস্থা আমাদের খামারে স্থাপন হচ্ছে। এটা শুধু মিলের জন্য নয়, এ অঞ্চলের কৃষির জন্যও বড় অর্জন ও সুসংবাদ। এ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে সময়, শ্রম ও পানির সাশ্রয় হবে।

 

 

বড়াইগ্রাম থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ