বড়াইগ্রামে প্রচণ্ড শীতে খেটে খাওয়া মানুষেরা চরম দুর্ভোগে


বড়াইগ্রাম

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি

(৬ মাস আগে) ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, রবিবার, ৬:৪২ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৬:৩৮ অপরাহ্ন

natoreview

বড়াইগ্রামে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন গ্রামের মানুষ। ছবি : নাটোরভিউ২৪

চলনবিল অধ্যূষিত বড়াইগ্রামে পৌষের শুরুতেই হাড় কাঁপানো শীত জেঁকে বসেছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনভর পথঘাট ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততার কারণে এবার ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষদের মাঝে কেউ কম্বল বিতরণ করতে দেখা যায়নি। তাই খড়-কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। প্রচণ্ড শীতের কারণে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে গেছে, রোববার সারাদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা এবং কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। তীব্র শীতে বেশির ভাগ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এরপরও জীবিকার তাগিদে শ্রমজীবীরা শীত উপেক্ষা করে তাদের কাজ করছেন।

রসুনের জমি নিড়ানোর কাজে ব্যস্ত নারী শ্রমিক আলেয়া খাতুন ও মরিয়ম বেগম জানান, জারে (শীতে) তো কষ্ট অয়ই, কিন্তু কি করমু। আমাগোরে কি আর গরে বইসে থাইকলে চলে। ছাওয়াল মিয়ের মুখে তো তিনবেলা চাট্টে ভাত দেওয়া নাগে। তাই এতো জারের মাঝেও বিলে কামে আইচি। এতো বিপদেও এখন পর্যন্ত কেউ একটা কম্বলও দেয়নি। বিয়েন বেলা (সকাল), সন্ধ্যা বেলা খড়কুটো জালায়ে শীতের কাছ থাকি বাঁইচপার চেষ্টা করি। তীব্র ঠান্ডা শৈত্যপ্রবাহের কারণে শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। দুর্ভোগ বেড়েছে গবাদিপশুদেরও। উপজেলার নিম্নবিত্তের মানুষেরা শীতবস্ত্রের অভাবে ভীষণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।

লক্ষ্মীকোল রাজ্জাক মোড়ের সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলারের চালক রমজান আলী বলেন, সারাদিন সুর্যের মুখ দেখি নাই। গাড়ি চালালে প্রচুর বাতাস লাগে, তাতে শীত আরও বাড়ে।  প্রচণ্ড শীতের কারণে খুব প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বাইরে বের হচ্ছে না। এসব কারণে যাত্রী মেলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, সরকারিভাবে ২ হাজার ৮৪৫ টি কম্বল পেয়েছি, সেগুলো নিয়মানুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।

বড়াইগ্রাম থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ