খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে বড়াইগ্রামে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জার কাজ। ছবি : নাটোরভিউ২৪
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে বড়াইগ্রামে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উপজেলার খ্রিস্ট সম্প্রদায়ভূক্ত তিন হাজার পরিাবারের প্রায় ১২ হাজার মানুষ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাদের কাঙ্খিত বড় দিন। বর্তমানে এ দিনকে ঘিরে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। এখন উপাসনালয় ও বাড়ি-বাড়ি আলোকসজ্জা, ক্রিসমাস ট্রি সাজানো, গোশালা তৈরিসহ নানা রকম প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এ সম্প্রদায়ের মানুষেরা। শান্তিপূর্ণভাবে বড়দিন উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।
উপজেলার বনপাড়া, বোর্ণি, গোপালপুর, ভবানীপুর, কুমরুল ও বাঘাইট গীর্জায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে এ ছয়টি গীর্জার আওতাভূক্ত প্রায় ২৫টি গ্রামে বসবাসকারী খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবার-পরিজনদের সাথে বড়দিনের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মজীবী মানুষেরা ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছেন। যিশুর আগমন বার্তা সবাইকে জানান দিতে বাড়ি বাড়ি চলছে নগরকীর্তন। বড়দিন ঘিরে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে বাড়ির মহিলারা প্রস্তুতির শেষ সময়ে বাড়িঘরের সাজসজ্জা আর পিঠাপুলি তৈরী করেছেন। গির্জা বা উপাসনলয়গুলো নানা রং-বেরংয়ের সাজে সাজানো হয়েছে। স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনদের জন্য সাধ্যমত নতুন পোষাক কেনাকাটাও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে বনপাড়া ধর্মপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, বড়দিন সামনে রেখে তরুণ-তরুণীরা ব্যস্ত সময় পার করছে আল্পনা তৈরী ও নানা সাজসজ্জার কাজে। রং তুলির আঁচড়ে যীশুর চিত্রকর্মের পাশাপাশি বর্ণিল সাজে সেজেছে পুরো এলাকা। কর্ম ব্যস্ততায় যেন দম ফেলার ফুরসত নেই কারো। উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সব বয়সীদের মাঝে। পরিবার-পরিজনদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে নতুন পোষাক, পিঠা-পুলিসহ জাগতিক ও আত্নিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন তারা।
বনপাড়া মহল্লার বাসিন্দা স্থানীয় পত্রিকা বিক্রেতা বাবলু রোজারিও বলেন, বড়দিন উপলক্ষে ধনী-গরীব সবার মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যেক বাড়িতে উঠানে আল্পনা তৈরী, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ গোশালা স্থাপন ও সেটিকে সাজিয়ে পরিপূর্ণ করা হচ্ছে।
জোনাইল বোর্ণি গ্রামের গৃহিনী অনন্যা রোজারিও বলেন, বড়দিনে আত্মীয়-স্বজনরা বেড়াতে আসছেন। যারা বাইরে চাকরী করে, তারা চলে এসেছে। তাই বড়দিনে সবাইকে আপ্যায়ন করতে পিঠাপুলি, কেক, পায়েশসহ বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি।
বনপাড়া প্যারিস কাউন্সিলের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বেনেডিক্ট গমেজ বলেন, বড়দিন ঘিরে সপ্তাহব্যাপী উপাসনা, কেক কাটা, নগর কীর্তন, পিঠা পর্ব, প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা রকমের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনসহ সবার সহাতায় শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় আবহে বড়দিনের উৎসব সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করছি।
বনপাড়া লুর্দের রাণী মা মারিয়া গীর্জার পাল পুরোহিত মি. দিলীপ এস কস্তা বলেন, প্রায় দুই হাজার বছর আগে ২৫ ডিসেম্বর বর্তমানের ফিলিস্তিনের বেথেলহেমের এক গোশালায় যিশু খ্রিস্ট জš§ নিয়েছিলেন। সেই থেকে প্রতি বছর খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা উৎসব মুখর পরিবেশে দিনটিকে বড়দিন হিসেবে পালন করে। এবারো অশান্ত ধরণীতে যেন শান্তি আসে, মানুষে-মানুষে যেন হানাহানি না থাকে সে প্রত্যাশা নিয়ে আমরা বড়দিন উদযাপন করবো।’
ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, খ্রিস্ট সম্প্রদায়ের মানুষেরা যেন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বড়দিন উদযাপন করতে পারেন সেজন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সব চার্চে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশও থাকবে।
