সন্তান লাভের আশায় রোববার লালপুরের রামকৃষ্ণপুরের ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী ফকির চাঁদ বৈষ্ণব গোঁসাই আশ্রমের গাছের নিচে আঁচল পেতে বসেছেন নিঃসন্তান নারীরা। ছবি : নাটোরভিউ২৪
লালপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুরের ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী ফকির চাঁদ বৈষ্ণব গোঁসাই আশ্রমের দুদিনব্যাপী চলা নবান্ন উৎসব আজ রোববার শেষ হয়েছে।
নবান্ন উৎসবকে ঘিরে সন্তান লাভের আশায় শতবর্ষী বটগাছের নিচে আঁচল পেতে নিঃসন্তান নারীদের মানত। উপজেলা জুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়।
রোববার (২৩ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আশ্রম প্রাঙ্গণে ভিড় জমতে থাকে নিঃসন্তান নারীদের। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারীরা স্নান শেষে ভেজা কাপড়ে শতবর্ষী বটগাছের নীচে রঙিন শাড়ির আঁচল মেলে রাখেন। তাদের বিশ্বাস গাছের কোনো পাতা বা ফল আঁচলে পড়লে সন্তান হওয়ার লক্ষ্মণ। পুরো সময় তাদের সহযোগিতায় ব্যস্ত ছিলেন এক নারী বৈষ্ণব।
বগুড়া থেকে আসা এক নারী জানান, ১০ বছর হলো তার সন্তান হয়না। চিকিৎসায় ফল না পাওয়ায় লোক মুখে শুনে তিনি আশ্রমে এসেছেন। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নারায়ণপুর থেকে আসা আরেক নারী বলেন, আমার বাড়ির পাশের দুই নারী এখানে মানত করে সন্তান লাভ করেছেন। তাই তিনিও এসেছেন সন্তানের আশায়।
আশ্রমের প্রধান সেবাইত শ্রী পরমানন্দ সাধু বলেন, নবান্নকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মানত করতে অনেক নারী এখানে আসেন। নিঃসন্তান নারীরা প্রথমে স্নান করে অক্ষয় বটমূলে বসে দ্বিতীয়া তিথিতে সন্তান লাভের আশায় প্রার্থনা করেন। প্রার্থনার সময় আঁচলে ফল বা পাতা পড়লে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী সেটা তিনদিন খাওয়াতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী খেলে অনেকে সন্তান লাভ করেন। পরে তারা মানত অনুযায়ী আশ্রমে বিভিন্ন জিনিস দিয়ে যান।
লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর রহমান বলেন, এভাবে মানত করা বা বসে থাকার সঙ্গে সন্তান লাভের বিষয়টি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
শনি ও রোববার সকালে লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুরে ফকির চাঁদ বৈষ্ণব গোঁসাইয়ের আশ্রমে দুই দিনব্যাপী নবান্ন উৎসব শুরু হয়। সকালে ধ্যান তপস্যার মাধ্যমে এ নবান্ন উৎসবের উদ্বোধন করেন আশ্রমের ৪৮তম প্রধান সেবায়েত শ্রী পরমানন্দ সাধু।
আশ্রম কমিটির সভাপতি শ্রী সঞ্জয় কুমার কর্মকারের সভাপতিত্বে প্রথম দিনের সুধী সমাবেশে ফকির চাঁদ বৈষ্ণব গোঁসাইয়ের আবির্ভাব ও তাঁর জীবনচরিত নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাজ হোসেন সৌরভ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবীর হোসেন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ওয়াজেদ আলী মৃধা। নবান্ন উপলক্ষে আশ্রম প্রাঙ্গণে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ, কলার পাতায় পরিবেশিত খিচুড়ি, পাঁচ তরকারি ও পায়েস বিতরণ করা হয়
