আশিক হোসেন
শিক্ষকের দেয়া মিথ্যা চুরির অপবাদ সইতে না পেরে নাটোরের সিংড়ায় আশিক হোসেন নামের এক বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি উপজেলার আগমুরশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী এবং আগমুরশন গ্রামের সেলিম হোসেনের ছেলে। এই ঘটনায় শনিবার রাতে সিংড়া থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনায় একটি মামলা করেছেন নিহত নৈশ প্রহরীর মা রানী বেগম। এই মামলায় একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন কে আসামী করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার আগমুরশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন তার সুদের কিস্তির ঋণ পরিশোধের জন্য মেয়ের কানের দুল নিয়ে বিদ্যালয়ে যান। শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের সময় সেই দুল জোড়া নিজ ড্রয়ারে রাখেন এবং বিদ্যালয় ছুটি শেষে ভুল করে দুল রেখে বাড়ি চলে যান। পরে বিদ্যালয়ে ফিরে এসে দুল না পেয়ে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষকদের জানান। এবং প্রধান শিক্ষককের বাড়িতে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ দেয়া হয়। শনিবার নৈশ প্রহরী স্থানীয় কলিয়া বাজারে গিয়ে লোকজনের মুখে চুরির অপবাদ শুনতে পেয়ে বাজারেই বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে বিকেল ৪ টায় চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, সুদে নেওয়া কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য মেয়ের দুল বিদ্যালয়ের ড্রয়ারে ভুলে রেখে চলে আসেন। পরে গিয়ে সেখানে আর দুল খুজে পাননি। বিষয়টি তিনি প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের জানান। তাছাড়া ওই নৈশ প্রহরী ইতিপূর্বে চুরির দায়ে শোকজ হয়েছেন।
আর প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষকের কিছু স্বর্ণ চুরি গেছে। বিষয়টি নৈশ প্রহরীকে বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান বলেন, এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
