গুরুদাসপুরে একটি বাঙ্গি খেত। ছবি : নাটোরভিউ২৪
অনেকটা বিনা খরচে রসুনের সাথী ফসল বাঙ্গি চাষ জনপ্রিয় ও লাভজনক হওয়ায় গুরুদাসপুরে চাষিরা ১০ বছর ধরে বাঙ্গি চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু এবছর চাহিদা ও উপযুক্ত মুল্য না থাকায় খরচ উঠছেনা। ফলে মাঠেই পচে নষ্ট হচ্ছে কষ্টের ফসল বাঙ্গি। কিছু বাঙ্গি জমি থেকে নিয়ে এলেও বিক্রি না হওয়ায় বাড়ির পাশেই স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। পড়ে তা পঁচে নষ্ট হচ্ছে।
এ অঞ্চলের চাষিরা জানান, বিগত সময় বাঙ্গী চাষ লাভজনক হওয়ায় আগ্রহ নিয়ে বাঙ্গির আবাদ করেছেন তারা। কিন্তু হঠাৎ এবছর ক্রেতা শূন্যতা ও দরপতনে উৎপাদিত বাঙ্গি নিয়ে তারা বিপাকে পরেছেন। শ্রমিক মজুরি ও পরিবহন ব্যয় না ওঠায় রসালো এ সুমিষ্ট ফল সংগ্রহে কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে ক্ষেতেই পচে নষ্ট হচ্ছে অধিকাংশ বাঙ্গি। এমন হলে আগামীতে এ অঞ্চলের চাষিরা এ ফসল চাষে আগ্রহ হারাবেন বলে জানান তারা।
উপজেলার পোয়ালশুড়া দড়িপাড়ার কৃষক আব্দুল ওয়াহাব জানান, তিনি এবছর দুই বিঘা জমিতে বাঙ্গির আবাদ করেছেন। সমপরিমান জমিতে গেল বছর ৮০ হাজার টাকা বিক্রি হলেও এবছর বিক্রি করেছেন মাত্র ১৮ হাজার টাকা। বাজারে ক্রেতা না মেলায় অনেক সময় বাঙ্গির স্তপ ফেলেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
পোয়ালশুড়ার সানোয়ার হোসেন, নয়াবাজারের আনারুল, নারিবাড়ীর মকব্লু, গেদা, বারেক, আবুলসহ, চলনালী, বিন্যাবাড়ীর অন্তত ১৫ জন কৃষক জানান, তারা অধিকাংশ বর্গাচাষি। জমির লিজমুল্য, চাষ, বিজ, সার, কীটনাশক, পানিসেচ, শ্রমিকের মজুরী মিলিয়ে প্রতিবিঘা রসুন চাষে খরচ লক্ষাধিক টাকা। রসুনের সাথী ফসল বাঙ্গি চাষে খরচের প্রায় অর্ধেক টাকা উঠে আসতো। কিন্তু এবছর দাম না থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে প্রনোদনা ও সুদমুক্ত কৃষি ঋনের দাবী জানান তারা।
স্থানীয় আড়ৎদার শাহীন আলী বলেন, প্রতিদিন গুরুদাসপুর থেকে ৮-১০ ট্রাক বাঙ্গি দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারী বিক্রি হয়। গেল বছর প্রতিটি বাঙ্গির পাইকারী দাম ছিলো ৩২ টাকা। কিন্তু এ বছর চাহিদা না থাকায় সেই বাঙ্গি বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৮ টাকায়। ক্রেতা চাহিদা না থাকায় কমদামে কিনেও বিক্রি হচ্ছে না। এতে পচে নষ্ট হচ্ছে বাঙ্গি, পুজি হারাচ্ছেন পাইকাররাও।
কুমিল্লা থেকে আসা আব্দুল খালেক বেপারী জানান, এবার বাঙ্গীর চাহিদা কম। বিক্রি করতে না পারায় ক্রয় করা যাচ্ছে না। প্রতি বছর প্রচুর বিক্রি হতো। প্রতি দিন ৬-৮ গাড়ি কিনতাম, এবার ২-১ গাড়িতেই শেষ করতে হচ্ছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশীদ জানান, গুরুদাসপুরে সুমিষ্ট রসালো বাঙ্গির খ্যাতি দেশজুড়ে। এবছর ৮৫০ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ হয়েছে। অনুকুল আবহাওয়া, কর্মকর্তাদের সার্বক্ষনিক মাঠ পরিদর্শন ও পরামর্শে চাষি বাঙ্গির ভালো ফলন পেয়েছেন।
