গুরুদাসপুরের নাজিরপুরে লিচু বাগান মৌমাছির বাক্স। শনিবার তোলা। ছবি : নাটোরভিউ২৪
সারিসারি লিচুর গাছ, দেখতে যেনো শিল্প নৈপুণ্য। চারিদিকে বাগান আর বাগান। গাছে গাছে ধরেছে মুকুল। চারপাশে মিষ্টি সুগন্ধ। লিচুর উৎপাদন বাড়াতে বাগানে বাগানে চাষিদের আমন্ত্রণে এসেছে মৌচাষিরা। সারি সারি সাজানো হয়ে মৌমাছির বাক্স’। লিচুর বাগানে মৌমাছির বাক্স বসানোর ফলে একদিকে লিচু উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে অপরদিকে মধু উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছে মৌ চাষিরা। এলাকায় এখন যেনো চলছে মধু মাস।
উপজেলার নাজিরপুর, বিয়াঘাট, চাপিলা, ধারাবারিষা ইউনিয়নসহ উপজেলাজুড়ে বাণিজ্যিক ভাবে মোজাফ্ফর, বেদেনা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-থ্রি জাতের লিচু চাষ হয়। উপজেলায় ৪১০ হেক্টর জমিতে ৩০০টি বাগান রয়েছে। এসব বাগানে দেড়শ’ জন খামারি চৌদ্দ হাজার মৌ বাক্স বসিয়েছেন। গত শনিবার উপজেলার নাজিরপুর ও বিয়াঘাট ইউনিয়ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে মুকুল সুগন্ধ ছড়াচ্ছে। কিছু কিছু বাগানে পর্যাপ্ত পরিমাণে গুটি এসেছে। সেসব বাগান থেকে মৌমাছির বাক্স নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অন্যত্র।
মৌ খামারি শাহিন আলম, দিলিপ, মাসুদ, মোকাররম, সোহেল সরকার, আমিনুল হক ও আবদুল আলিম যুগান্তরকে বলেন, বাগানে বাগানে তাঁরা দুই শতাধিক ছোটবড় খামার স্থাপন করেছেন। প্রতিটি বাক্সে একটি রানি মৌমাছি, একটি পুরুষ মৌমাছি ও অসংখ্য কর্মী মৌমাছি রয়েছে। কর্মী মৌমাছিরা ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে যায় লিচুর মুকুলে। পরে মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করে নিজ নিজ মৌচাকে এনে জমা করে। মুকুল ঝড়ে লিচুর গুটি আসতে শুরু করেছে। কিছু খামারী বাক্স নিয়ে চলে যাচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সবাই সুন্দরবন এলাকায় চল যাবে। আবহাওয়া ভালো থাকায় তারা লাভবান হয়েছে।
স্থানীয় চাষি ছাড়াও সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, পাবনাসহ দেশের অনেক জেলা থেকেও মৌচাষিরা আসেন মধু সংগ্রহে। ছোটবড় নানা আকৃতির মৌমাছির বাক্স বসিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মধু সংগ্রহ করেন তারা।
নাজিরপুর ইউনিয়নের পুরস্কারপ্রাপ্ত লিচু চাষি মো. সাখাওয়াত হোসেন মোল্লা বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে নাজিরপুর ইউনিয়নে স্বল্প পরিসরে লিচুর আবাদ শুরু হয়েছিল। এখন উপজেলাজুড়েই বাণিজ্যিকভাবে লিচুর আবাদ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে লিচু চাষে সফলতা পাচ্ছেন চাষিরা। কীটনাশকের চেয়ে মৌমাছির পরাগায়নপদ্ধতি লিচুর উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ বলেন, লিচুর মুকুলে মৌমাছি বসলে পরাগায়ন ভালো হয়। ফলে ওই গাছে বা বাগানে লিচুর ফলন বাড়ায়। এবার বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। এতে করে মৌচাষীদের পাশাপাশি বাগানীরা লাভবান হবে।
