লালপুরে ৩২৭তম গোসাই আশ্রমের নবান্ন উৎসবে উপচেপড়া ভিড়


ধর্ম লালপুর

লালপুর প্রতিনিধি

(১ বছর আগে) ৪ ডিসেম্বর ২০২৪, বুধবার, ৭:৩৩ অপরাহ্ন

natoreview

লালপুরে ৩২৭ তম গোসাই আশ্রমের দুদিনব্যাপী নবান্ন উৎসবে ভক্ত ও দর্শনার্থী। ছবি : নাটেরভিউ২৪

লালপুরে ৩২৭ তম গোসাই আশ্রমের দুদিনব্যাপী নবান্ন উৎসব শেষ  হয়েছে। ঐতিহ্যের এক অন্যতম নিদর্শন শ্রী. ফকির চন্দ্র গোসাইয়ের আশ্রম। প্রায় সোয়া ৩০০ বছরের পুরনো এই আশ্রম। অশ্রমের অন্যতম প্রধান উৎসব হলো নবান্ন। হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় উৎসবমুখর পরিবেশে মুখরিত হয়ে উঠেছে এই অংশ্রমস্থল।

বুধবার (৪ ডিসেন্বর) উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুরে আশ্রম কমিটির সভাপতি শ্রী সঞ্জয় কুমারের সভাপত্বিতে আশ্রমের কার্যক্রম শেষ হয়েছে, দুদিন (৩-৪ ডিসেবর) ব্যাপী চলা নবান্ন উৎসবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান রাজু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির নাটোর জেলা সভাপতি প্রসাদ কুমার বাচ্চা সরকার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।

আশ্রম এলাকা ঘুরে ভক্ত ও সেবাইতদের সঙ্গে কথা বলে জানাযায় নারী পুরুষ নির্বিশেষে ভক্তরা আশ্রমে পৌঁছেই শ্রী শ্রী ফকির চাঁদ বৈষ্ণব গোসাইজী ও তার শিষ্য সাধু বৃন্দের সমাধীতে ভক্তি শ্রদ্ধা জানান। ভক্তরা আশ্রমের উন্নয়নে সাধ্যমত দান করছেন। নি:সন্তান বন্ধ্যা মহিলারা আশ্রমের অক্ষয় তলা নামক স্থানে বটগাছের নিচে সদ্য শেষে ভেজা কাপড়ে বসে আঁচল বিছিয়ে সন্তান লাভের জন্য ভীখ মাংগছেন। কথিত আছে যদি গাছের ফল বা পাতা আঁচলের ওপর পড়ে তাহলে নি:সন্তান নারী সন্তান লাভ করবে। আশ্রম প্রাঙ্গনে দুপুরে সারিবদ্ধভাবে বসে গোসাইজীর ভক্তরা কলার পাতায় করে খিচুড়ি, পাঁচ তরকারী ও পায়েশ ভক্ষণ করেন।

আশ্রমের প্রধান সেবাইত শ্রী পরমানান্দ সাধু জানান, বাংলা ১২১৭ সালে উপজেলা সদর থেকে আট কিলো মিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে দুড়দুড়িয়ার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের গহীন অরণ্যে একটি বটগাছের নিচে আস্তানা স্থাপন করেন ফকির চাঁদ বৈষ্ণব। এখানেই সাধু ধ্যান-তপস্যা ও বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার আরম্ভ করেন। প্রতি বছর দোল পূর্ণিমা, গঙ্গা স্নান ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত সাধক সমবেত হন। সাধু ফকির চাঁদ বৈষ্ণবের মৃত্যুর পর নওপাড়ার জমিদার তারকেস্বর বাবু তাঁর (সাধুর) স্মরণে সমাধিটি পাকা করে দেন। এ ছাড়াও ভক্তদের সুবিধার্থে ৬৮ বিঘা জমি ও সান বাঁধানো বিশাল দুটি পুকুর দান করেন। আশ্রম চত্ত্বরে দালান কোঠা নির্মানেও তিনি সহযোগিতা করেন। আশ্রমের প্রবেশ পথে রয়েছে ময়ূর, বাঘ ও বিভিন্ন প্রাণির মূর্তি এবং লতা-পাতা কারুকার্য খচিত সুবিশাল ফটক। প্রধান দ্বার প্রান্তে ডান পাশে রয়েছে ভক্ত সাধু ও সাধু মাতাদের আবাসন। বাম পাশে রয়েছে ৬ জন সাধুর সমাধি মন্দির। একটু সামনেই রয়েছে শ্রী ফকির চাঁদ বৈষ্ণবের চার কোনা প্রধান সমাধি স্তম্ভ। কাথিত আছে, মন্দিরের মধ্যে সাধু ফকির চাঁদ স্বশরীরে প্রবেশ করে ঐশ্বরিকভাবে স্বর্গ লাভ করেন। তাঁর শবদেহ দেখা যায় নি। আশ্রম চত্ত্বরে রয়েছে ১৪২ জন ভক্ত সাধুর সমাধি। বাংলা (৩২৮ বছর পূর্বে) শ্রী শ্রী ফকির চাঁদ বৈষ্ণব গোসাইজীর আশ্রম স্থাপিত হয়।

এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার ভক্ত বৃন্দের আগমন ঘটে। দুই শতাব্দির স্মৃতিবাহী ফকির চাঁদ গোসাই আশ্রম দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের কোলাহলে মুখরিত আশ্রমটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। আশ্রমটি ৩২ বিঘা জমির উপর অবস্থিত। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দুই দিনব্যাপী নবান্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

 

ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

natoreview
লালপুরে রামকৃষ্ণপুর গোসাঁইজির আশ্রম
কমিটির বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সর্বশেষ