বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত আব্দুর রাজ্জাক। রোববারের তোলা। ছবি : নাটোরভিউ২৪
বাগাতিপাড়ায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত দেড় বছরে এ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। শুধু গত তিন মাসে এই হাসপাতালে ২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম কার্যকর পদক্ষেপসহ সংক্রমন প্রতিরোধে জনমনে প্রচার ও প্রয়োজনীয় তেমন ব্যবস্থা গ্রহন না করার অভিযোগ স্থানীয়দের। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে হাসপাতালে।
স্থানীয় সূত্রে জানা জানা যায়, পৌরসভা ও ইউনিয়ন সবখানেই ঝোপঝাড় ও জলাবদ্ধতা রয়েছে। এসব স্থানকে মশার প্রজননকেন্দ্র হিসেবে ধরা যায়। অথচ মশার কামড় থেকে সৃষ্ট ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক কোনো ধরনের প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে পৌরসভা থেকে সম্প্রতি মশক নিধনে একবার ওষুধ স্প্রে করা হলেও ইউনিয়নগুলোতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত মশক নিধনে এবং ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা য়ায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৪ এর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই তিন মাসে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তবে এসব রোগীদের বেশির ভাগই বাইরের এলাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে আসছেন। অনেকেই পজেটিভ হওয়ার পর প্রাইভেট ক্লিনিক, জেলা বা বিভাগীয় শহরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হাসপাতালের প্যাথলজি ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানান, গত বছরের আক্টোবর থেকে চলতি ২০২৪ এর জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী পরীক্ষার ডিভাইস (কীট) না থাকায় এই হাসপাতালে ওই সময় কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়নি। কিন্তু ২০২৪ এর জুলাই মাস থেকে থেকে সর্বশেষ ৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই হাসাপাতালের প্যাথলজি বিভাগে ১৫৫ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত পাঁকা রামপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক ও চিথলিয়া এলাকার মরিয়ম খাতুম জানান, গত ৩-৪ দিন শরীরে প্রচণ্ড জ্বর, মাথা ব্যাথা ও বমি নিয়ে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরীক্ষার পর তারা ডেঙ্গু পজিটিভ জানতে পারেন। তবে এখন তারা আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থবোধ করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আব্দুর রাজ্জাক জানান, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কীট, আলাদা ওয়ার্ডসহ সব ধরনের প্রস্তুতি হাসপাতালের রয়েছে। তবে সতর্ক হতে ডেঙ্গু নিয়ে সবখানে প্রচার চালানো প্রয়োজন। তাছাড়াও বাড়ির আশে-পাশে পরিষ্কার রাখা ও নর্দমায় নোংরা পানি বা জলাবদ্ধতা না থাকে, তার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনামিকা নজরুল বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে পৌর এলাকায় কিছু ওষুধ ছিটানো হয়েছে। মেশিন নষ্ট হওয়ায় মেরামতের জন্য রাজশাহী পাঠানো হয়েছে। সেটি হাতে পেলে পৌরসভার সব ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানো হবে। এছাড়াও সচেতনতা সৃষ্টি করতে সব ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
