টিআইবি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ফেলোশিপ পেলেন চ্যানেল ২৪-এর ইমদাদ হক


কীর্তিমান বাগাতিপাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

(১ সপ্তাহ আগে) ৪ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ১০:১৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১০:২০ অপরাহ্ন

natoreview

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রবর্তিত দুর্নীতিবিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ গ্রহণ করছেন চ্যানেল ২৪-এর বিশেষ প্রতিনিধি ইমদাদ হক। ছবি : সংগৃহীত

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রবর্তিত দুর্নীতিবিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ অর্জন করেছেন চ্যানেল ২৪-এর বিশেষ প্রতিনিধি ইমদাদ হক। পিরোজপুর জেলায় অস্তিত্বহীন কয়েকশ সেতুর অনিয়ম নিয়ে করা তার দুই পর্বের সিরিজ প্রতিবেদনের জন্য তিনি এই সম্মাননা পান।

গত বছরের সেরা রিপোর্টের ভিত্তিতে মোট পাঁচজন সাংবাদিককে এই ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীদের হাতে এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেয়া হয়।

ইমদাদ হকের পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল— ‘২০০ ব্রিজ খাতায় আছে, বাস্তবে নেই’ এবং ‘পিরোজপুরে গায়েবি সেতুর মহাপরিকল্পনায় মহারাজ পরিবার’। অনুসন্ধানী এই প্রতিবেদনে উঠে আসে কীভাবে কাগজে-কলমে সেতু দেখিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট করা হয়েছে, যেখানে বাস্তবে সেসব সেতুর কোনো অস্তিত্বই নেই।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যম দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে না। জনকল্যাণে অপরিহার্য পণ্য- সংবাদ, তথ্য ও প্রতিবেদন, তথা পাবলিক গুড উৎপাদনকারী হিসেবে যেখানে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে স্বীকৃত হবার কথা, সেখানে দেশের সব সরকার ধারাবাহিকভাবে গণমাধ্যম তাদের অন্যতম শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। যে কারণে মুক্ত গণমাধ্যম উপযোগী সংস্কার দূরে থাক, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এক্ষেত্রে সংস্কারের নামে যা হয়েছে, বিশেষ করে সাইবার সুরক্ষা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনার, ইত্যাদির নামে যে অধ্যাদেশগুলো প্রণীত হয়েছে, তার ফলে সরকারের কর্তৃত্বে নজরদারি কাঠামো অধিকতর নিবর্তনমূলক হয়েছে। যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সার্বিকভাবে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগ গভীরতর হয়েছে। তাই গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে যে অগ্রগতি নেই, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ দোসর ছিল গণমাধ্যম, অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যম আত্মসমর্পণ করেছে। অনেকে সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে গণমাধ্যমের ঘরের শত্রুর ভূমিকায় লিপ্ত হয়েছে। এতে করে গণমাধ্যমের যারা পেশাগত দেউলিয়াপনার শিকার হয়েছে, তাদের জন্য পুরো খাতের ওপর জনআস্থাও ঝুঁকিতে পড়ছে। এজন্য আয়নার মুখোমুখি হয়ে আত্মজিজ্ঞাসা গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— চ্যানেল ২৪ এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, সমকাল পত্রিকার সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে উদ্যোক্তা অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা নাটোরের বাগাতিপাড়ার কৃতি সন্তান ইমদাদ হক বর্তমানে চ্যানেল ২৪-এ বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি বণিক বার্তা, সমকাল ও আমাদের সময়ে কাজ করেছেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি টেকসই উন্নয়নে অনানুষ্ঠানিক খাতের ভূমিকা নিয়ে এমফিল গবেষণা করছেন। দেশি-বিদেশি জার্নালে তার প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং তার লেখা বইয়ের সংখ্যা তিনটি। ইতিপূর্বে তিনি ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড, এমআরডিআই ফেলোশিপ ও বন্ধু মিডিয়া ফেলোশিপ অর্জন করেছেন।