নাটোর নার্সিং ইনষ্টিটিউট হলরুমে শনিবার ‘প্রবীণ মানসিক স্বাস্থ্য ও সার্ভিস রুলস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান। ছবি : নাটোরভিউ২৪
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেছেন, নাটোর নাসিং ইনস্টিটিউট এ দ্রুত একজন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হবে। আগামী বছর থেকে নাটোর নাসিং ইনস্টিটিউট এ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। অসমাপ্ত যে কাজ গুলো রয়েছে তাও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
শনিবার দুপুর ২টায় নাটোর নার্সিং ইনষ্টিটিউট হলরুমে ‘প্রবীণ মানসিক স্বাস্থ্য ও সার্ভিস রুলস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. সাইদুর রহমান আরও বলেন, প্রবীণরা বার্ধ্যক্যে শারিরিক দুর্বলতার কারণে মানসিকভাবে বেশি নির্ভরশীল হন। পরিবারে তাদের পাশে থেকে তাদের একাকিত্ব দূর করতে হবে। আর অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে এলে তাদের সঙ্গে শুধু ভালো ব্যবহারই নয় একটু দরদ দিয়ে যত্ন করতে হবে। এটি আমাদের চাকরির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অমূল্য ইবাদত।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আরও বলেন, প্রবীণদের সাহচর্যে থাকলে মানসিক সাহস ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। মনে প্রশান্তি আসে। তাই সব করণীয় কাজ সহজ হয়ে যায়।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মুক্তাদির আরেফীনের সভাপতিত্বে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর আয়োজিত প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারোয়ার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মঈনুল আহসান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ সচিব মো. গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
এর আগে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল ও নির্মানাধীণ নাটোর নাসিং ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে স্বাথ্য সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কোন হাসপাতালে আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। কোভিড সময়ে দু-একটি হাসপাতাল চালু করে ছিলো। এটা চালু করতে সময় লাগবে। এছাড়া ভালো কার্ডিওলোজিস্ট নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালে সিসিইউ চালু করার উদ্যেগ নেয়া হবে। এই মূর্তে চিকিৎসক সংকট আছে। পদোন্নতি প্রাপ্ত চিকিৎসকরা কর্মস্থলে চলে আসলে চিকিৎসক সংকট কেটে যাবে।
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল নিয়ে সচিবের পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি হাসপাতালে আইসিইউ, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিস দরকার। সদর হাসপাতালে সে রকম পরিবেশ না থাকায় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া চোখের ফেকো অপারেশনের জন্য অল্প দিনের মধ্যেই মেশিন সরবরাহের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
উদ্বোধনের পর বন্ধ থাকা জেলার নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে সচিব বলেন, হাসপাতালটির জন্য এখনো পদ সৃজন হয়নি। আগামী কয়েক দিনে নতুন চিকিৎসকের গ্রেজেট হবে। তারপরে জুনিয়র চিকিৎসক সেখানে নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এর আগে তিনি নাটোর চাঁদপুর এলাকায় মেজর জেনারেল আমজাদ খান চৌধুরি মেমোরিয়াল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব, সিভিল সার্জন ডা. মোক্তাদির আরেফিন, পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপপরিচালক আনোয়ারুল আজিম, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মাহাবুবুর রহমানসহ হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
