নাটোরের গুরুদাসপুরে সীমা খাতুন (২৮) নামের এক গৃহবধুকে পিটিয়ে ও বিষ প্রয়োগে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের রানীগ্রাম এলাকায় নিহত গৃহবধুর বাবার বাড়িতে পরিবারবর্গের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন, নিহত গৃহবধুর ভাই রুবেল আহম্মেদ,ফুফু রোকিয়া বেগম ও তাঁর বোন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, প্রায় ৭ বছর পূর্বে উপজেলার শিকারপুর বাহাদুরপাড়া গ্রামের রতন ওরফে কালু মিয়া’র সাথে সীমা খাতুনের বিবাহ হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ বিভিন্ন দাবিতে মারধর করতো তাঁর স্বামী। তার দুইটি শিশু সন্তানও রয়েছে। স্ত্রী সন্তান রেখে তাঁর স্বামী কালু মিয়া পরকীয়ায় জড়িয়ে পরে। বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবাদ করলে প্রায়ই তাকে মারধর করত। কখনও কখনও বাড়ি থেকে বের দিত। এমনকি প্রায়ই মেরে ফেলার হুমকিও দিত।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে খাবার খাওয়ার সময় স্বামী স্ত্রী দুজনের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। একপর্যায় স্বামী কালু, শশুড়,শাশুড়ি,দেবরসহ মোট পাঁচজন মিলে সেই গৃহবধুকে এলোপাথারিভাবে মারধর করে। জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর জোরপুর্বক তাকে বিষ খাওয়ানো হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ছুটে যান তাঁরা। উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেলে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। কালুসহ এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে রাস্তায় এলাকাবাসীর আয়োজনে সেই গৃহবধু হত্যার মূল আসামীসহ জড়িত সকল আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের জনসাধারন অংশ নেয়।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাঃ মনোয়ারুজ্জামান বলেন,‘ এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে গৃহবধুর ভাই। ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের জন্য জোড় তৎপরতা চলছে।
