সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর দেখে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মেডিকেল কলেজে ভর্তির আর্থিক সহযোগিতা করেছেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গত ১৯ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে আগে "সুযোগ পেয়েও তাহসিনের মেডিকেলে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত" শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সংবাদটি আরো কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর সংবাদটি সাাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে শেয়ার হতে থাকে। বিষয়টি নজরে আসে জনপ্রিয় রাজনীতিক জুনাইদ আহমেদ পলকের। এর পর ওই শিক্ষার্থীর মেডিকেল কলেজে ভর্তিসহ পড়ালেখার খরচের যোগান দেন তারুণ্যের হার্টথ্রব এই রাজনীতিক। বিষয়টি তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন।
তবে প্রচার পাওয়ার জন্য না, এই বিষয়ে অন্যদের উৎসাহিত করার জন্যই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি শেয়ার করেন। এ বিষয়ে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘‘দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা করছি এবং তাহসিনের মত যারা অর্থের অভাবে শিক্ষা কিংবা চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে তাদেরকে যেন শিক্ষা চিকিৎসা এবং জরুরি প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত হতে না হয় খাবারের কষ্ট পেতে না হয় তার জন্যই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সকলের দোয়া প্রার্থনা করি।
ফেসবুকের এই পোস্টটি নিজের প্রচারের জন্য নয় বরঞ্চ অন্য আরও ১০ জনকে উৎসাহিত করার জন্য অনুপ্রাণিত করার জন্য যদি এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদের মধ্যে কেউ অনুপ্রাণিত হন আপনাদের কাছের প্রতিবেশী আত্মীয় বন্ধু অথবা কেউ আর্থিক কষ্টে যদি পড়াশোনা বা স্বাস্থ্যগত চিকিৎসার অভাবে থাকেন অথবা খাবারের কষ্টে থাকেন আমরা যারা একটু সামর্থ্য বানাচ্ছি তারা যেন পাশে দাঁড়ায়।’’
এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থানরত নাটোরের বাসিন্দা ও দৈনিক কালবেলা পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক নাজমুস সাকিব বলেন, ‘‘সাধারণত নির্বাচনী এলাকার ভোটার বা বাসিন্দাদের এমন সহযোগিতার চল আমরা দেখে আসছি। আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকেই নিজের সংসদীয় আসনের লোকজনকে সহযোগিতা করে সেটা প্রচার করে বাহবা নিতে চান। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। কারণ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে আমরা দেখেছি, মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হওয়া ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি লালপুরে, যেটি আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের বাইরে। সেখানে ভোটের আশা নেই, এলাকাবাসীর সহানুভূতি পাওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই। আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে তাঁর শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ও মেধাবিকাশের পক্ষে সহায়ক মনোভাবই প্রকাশ করে।’’
উল্লেখ্য যে, মানবিক নানা বিষয়ে এমন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় প্রতিমন্ত্রী পলককে। তার মানবিক এই উদ্যোগ কেবল নাটোরের সিংড়াবাসীর জন্য না, সারাদেশের সকল মানুাষের জন্যই। এছাড়া হোয়াটস আপ, ফেসবুক, টুইটার, ইমেইল বা সামাজিক যোগাযোগের যেকোনো মাধ্যমেই প্রতিমন্ত্রী পলকের কাছে সহজেই পৌঁছা যায়। তিনি সময় করে মানবিক আবেদনগুলোর প্রতিউত্তরও করেন।
পাঠকদের সুবিধার্তে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে দেওয়া হলো, "সুযোগ পেয়েও তাহসিনের মেডিকেলে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত" সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি খবর নজরে আসার পরে আজ তাহসিনের ভর্তির জন্য সহযোগিতা করেছি।
আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সকলকে আহবান করেছেন যে আমরা ইফতার মাহফিলের নামে খুব বেশি বড় আয়োজন করে খরচ না করে বরঞ্চ যাদের প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা তাদেরকে যেন আমরা আর্থিক সহায়তা দিই। আমরা আসুন যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করি সেই কারণেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি আমরা আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে কোন ইফতারের আয়োজন করছি না। দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা করছি এবং তাহসিনের মত যারা অর্থের অভাবে শিক্ষা কিংবা চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে তাদেরকে যেন শিক্ষা চিকিৎসা এবং জরুরি প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত হতে না হয় খাবারের কষ্ট পেতে না হয় তার জন্যই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সকলের দোয়া প্রার্থনা করি।
ফেসবুকের এই পোস্টটি নিজের প্রচারের জন্য নয় বরঞ্চ অন্য আরও ১০ জনকে উৎসাহিত করার জন্য অনুপ্রাণিত করার জন্য যদি এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদের মধ্যে কেউ অনুপ্রাণিত হন আপনাদের কাছের প্রতিবেশী আত্মীয় বন্ধু অথবা কেউ আর্থিক কষ্টে যদি পড়াশোনা বা স্বাস্থ্যগত চিকিৎসার অভাবে থাকেন অথবা খাবারের কষ্টে থাকেন আমরা যারা একটু সামর্থ্য বানাচ্ছি তারা যেন পাশে দাঁড়ায়।
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকা অনুযায়ী, নীলফামারি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পায় নাটোরের লালপুরের তাহসিন আহম্মেদ। অভাব–অনটনকে পেছনে ফেলে তাহসিনের এমন সাফল্যে পরিবারের সবাই বেশ খুশি। কিন্তু তাহসিনের মা–বাবার পক্ষে ছেলেকে মেডিকেলে ভর্তি করানো এবং তাঁর পড়াশোনার খরচ চালানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় তাহসিনের পড়াশোনার পরবর্তী খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁর মা–বাবা।
তাহসিনের বাবা মো. আমজাদ আলী নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। আগামী অক্টোবরে তিনি অবসরে যাচ্ছেন। তাহসিনের মা খাদিজা বেগম গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে তাহসিন ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
সবাই তাহসিনের জন্য দোয়া করবেন সে যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ এবং দেশের মানুষের সেবা করতে পারে।’’
"সুযোগ পেয়েও তাহসিনের মেডিকেলে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত" - এই শিরোনামে গত ১৯ মার্চ সংবাদটি দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি করেছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর নাটোর প্রতিনিধি মুক্তার হোসেন। পরে সংবাদটি আরো কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমেও সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে।
দৈনিক প্রথম আলো’র সংবাদটি হুবুহু তুলে দেওয়া হলো,
‘‘চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন নাটোরের লালপুরের তাহসিন আহম্মেদ। গতবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু সেবার ভর্তির সুযোগ পাননি। তবে তিনি দমে যাননি। এবার তিনি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকা অনুযায়ী, নীলফামারি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তাহসিন। অভাব–অনটনকে পেছনে ফেলে তাহসিনের এমন সাফল্যে পরিবারের সবাই বেশ খুশি। কিন্তু তাহসিনের মা–বাবার পক্ষে ছেলেকে মেডিকেলে ভর্তি করানো এবং তাঁর পড়াশোনার খরচ চালানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় তাহসিনের পড়াশোনার পরবর্তী খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁর মা–বাবা।
তাহসিনের বাবা মো. আমজাদ আলী নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। আগামী অক্টোবরে তিনি অবসরে যাচ্ছেন। তাহসিনের মা খাদিজা বেগম গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে তাহসিন ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
নটর ডেম কলেজ থেকে জিপিএ–৫ পেয়ে গত বছর এইচএসসি পাস করেছেন তাহসিন। এরপর মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেও সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ মেলেনি। পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যানে ভর্তি হন। এবার আবার মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। অবশেষে তিনি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের অভাব–অনটন।
তাহসিনের বাবা আমজাদ আলী বলেন, তাহসিন পড়াশোনায় সব সময়ই মনযোগী ছিল। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর তাহসিন ঢাকায় নটর ডেম কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। কিন্তু তিনি আর্থিক অনটনের কারণে ছেলেকে ঢাকায় পাঠাতে চাননি। পরে তাহসিন নিজের চেষ্টাতেই ঢাকায় গিয়ে ভর্তি হয়। সেখানে টিউশনি করিয়ে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছে ছেলে। এখন কীভাবে ছেলেকে মেডিকেলে পড়াবেন, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
মা খাদিজা বেগম বলেন, ‘ছেলেকে ডাক্তার বানানোই আমাদের একমাত্র স্বপ্ন ছিল। সে নিজের চেষ্টায় মেডিকেলে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে। কিন্তু মেডিকেলে পড়ানোর খরচ জোগার করার যোগ্যতা আমাদের নাই। ওর বাবাও অবসরে যাচ্ছে। এখন আমরা কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’
তাহসিন আহম্মেদ বলেন, ‘এর আগে নটর ডেম কলেজে ভর্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। পড়ালেখার খরচ নিজে জোগাড় করব, এ শর্তে ভর্তি হয়েছিলাম। প্রাইভেট পড়িয়ে পড়াশোনা চালানোর পাশাপাশি জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসিতে শিক্ষা বোর্ড বৃত্তি পেয়েছিলাম। এভাবেই এত দিন পড়াশোনা করেছি। মেডিকেলে কোনোরকমে ভর্তি হতে পারলে হয়তো একটা ব্যবস্থা করে নেব। আমাকে ডাক্তারি পড়তেই হবে।’’
