খাদ্যে ভেজালের অভিযোগে ৬ বেকারিকে লাখ টাকা জরিমানা


গুরুদাসপুর গুরুদাসপুর

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি

(৩ বছর আগে) ২১ মার্চ ২০২৩, মঙ্গলবার, ৮:৫২ অপরাহ্ন

natoreview

গুরুদাসপুরের ৬টি বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরির প্রমাণ পায় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর

নাটোরের গুরুদাসপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ, বিক্রয় এবং খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর অপরাধে ছয়টি বেকারিকে এক লাখ তিন হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। 
সকাল ১০ টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব-৫ সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম।
সোমবার (২০ মার্চ) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধা ৭টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাচকৈড় খলিফাপাড়া ও খামারনাঁচকৈর গ্রামে ছয়টি পৃথক বেকারীতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নাটোর কার্যালয়ের সাথে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বলে জানান, রফিকুল ইসলাম।
এ সময় দশ হাজার ৯০ কেজি ভেজাল খাদ্যের কাঁচামাল, মেয়াদর্ত্তীন্ন ১৪ হাজার ৮৫০ প্যাকেট ভেজাল খাবার পন্য এবং দশ হাজার ২৯০ লিটার চিনির সিরাপ ধ্বংস করা হয় বলে জানান তিনি।
রফিকুল ইসলাম বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ, বিক্রয় এবং খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল মিশ্রনের অপরাধে  গুরুদাসপুরের চাচকৈড় খলিফাপাড়া এলাকার মেসার্স মাহী ফুডস্ প্রোডাক্টস বেকারীর স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হককে পাঁচ হাজার টাকা, একই এলাকার এম হক ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরীর মালিক মোজাম্মেল হককে ষাট হাজার টাকা, চাচকৈড় মধ্যপাড়া এলাকার নিউ আল মদিনা বেকারীর স্বত্বাধিকারি সোহেল ইকবালকে বিশ হাজার টাকা, খামারনাঁচকৈড় এলাকার বিসমিল্লাহ চানাচুর ফ্যাক্টরীর মালিক মো. কামরুল হাসানকে পাঁচ হাজার টাকা, একই এলাকার মেসার্স ফকির চানাচুর ফ্যাক্টরীর স্বতাধিকারি আব্দুল মজিদ ফকিরকে আট হাজার টাকা এবং মেসার্স ডলার চানাচুর ফ্যাক্টরীর মালিক মো. ডাবলু ফকিরকে পাঁচ হাজার টাকা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইনে জরিমানা করা হয়। 
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নাটোর এর নির্দেশক্রমে জব্দকৃত ভেজাল আলামতসমূহ উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জরিমানাকৃত মোট এক লাখ তিন হাজার টাকা সরকারী কোষাগারে জমা করা হয়েছে বলে জানান ওই র‍্যাব কর্মকর্তা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নাটোরের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদি হাসান তানভীর বলেন, “বেকারীগুলোতে যে তেল ছিল সেগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এক তেলে বার বার কোনো পণ্য ভাজলে তেলের গুণ-মান একবারে নষ্ট হয়ে ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়। যেগুলো ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হয়ে দাড়ায়। রমজানকে কেন্দ্র করে প্রচুর বুন্দিয়া এসব বাজে তেলেই ভাজা হয়েছে। এছাররা পঁচা চিনির সিরাপ ব্যবহার করা হচ্ছিলো, যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। “