বড়াইগ্রামে মাল্টা চাষে কোটিপতি মিজানুর


উদ্যোগ বড়াইগ্রাম

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি

(৬ মাস আগে) ৮ নভেম্বর ২০২৫, শনিবার, ৫:২৩ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৭:৫৬ অপরাহ্ন

natoreview

বড়াইগ্রামে মাল্টা বাগান পরিচর্যা করছেন চাষী মিজানুর রহমান। ছবি : নাটোরভিউ২৪

বড়াইগ্রামে বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ২১ বিঘা জমিতে মিশরীয় জাতের মাল্টা চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন চাষী মিজানুর রহমান। গত ৬ বছরে বাগানে উৎপাদিত মাল্টা বিক্রি করে তিনি প্রায় দেড় কোটি টাকা উপার্জন করেছেন।

উপজেলার আটঘরিয়া এলাকায় এ ফল চাষে সফলতা পাওয়ায় এলাকায় তিনি মাল্টা মিজান নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। মাল্টা চাষে সফলতা পেয়ে পাশাপাশি তিনি আরো দুই বিঘা জমিতে ড্রাগন, ১৫ বিঘায় পেয়ারা, ৪ বিঘা জমিতে পেঁপে, এক বিঘায় আঙ্গুর এবং আরো এক বিঘা জমিতে আলু বোখারা ও অ্যাভোকাডো’র চাষ করেছেন। তার দেখাদেখি উপজেলার অনেক বেকার যুবকেরা মাল্টাসহ বিভিন্ন ফল চাষ শুরু করেছেন। মিজানুর উপজেলার মাঝগ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।

মিজান পেশায় ট্রাক চালক ছিলেন। এক সময় বাড়তি আয়ের আশায় সৌদি আরব যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় ইউটিউবে তিনি মাল্টা চাষের মাধ্যমে ময়মনসিংহের এক চাষীর সফলতা দেখে নিজেও উদ্বুদ্ধ হন। পরে দেশে ফিরে এসে ২০১৭ সালে তিনি আটঘরিয়া এলাকায় ৭ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মিশরীয় জাতের মাল্টা চাষ করেন। পরে ভাল সফলতা পাওয়ায় দুই দফায় জমি বাড়িয়ে মোট ২১ বিঘা জমিতে মাল্টার চাষ করেছেন তিনি। তার বাগানে বর্তমানে দুই হাজার একশ’ টি মাল্টা গাছ রয়েছে। চারা রোপণের দুই বছর পর ফল ধরতে শুরু করলেও তিন বছর পর প্রতিটি গাছে পূর্ণাঙ্গরূপে ফল ধরা শুরু করে। প্রতিটি গাছ থেকে ৩০০-৪০০টি মাল্টা পান তিনি। তবে বয়স হওয়ার কারণে এবার তার কয়েকশ’ গাছ ফল দেয়ার পর থেকে মরে যেতে শুরু করেছে।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানে সারিবদ্ধ মাল্টার গাছ। তার বাগানে ৭-৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তারা সারা বছরই এ বাগানে কাজ করেন। এছাড়া মাঝে মাঝে বেশি শ্রমিকও লাগে। মাল্টা চাষ করে মিজানুর এখন সফল ও স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ সময় মিজানুর রহমান বলেন, প্রতি বছর বিঘা প্রতি প্রায় দুই লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করা যায়। সে হিসাবে তিনি তার মাল্টা বাগান থেকে বছরে কমপক্ষে ৪২ লাখ টাকার ফল বিক্রি করে থাকেন। এবার বাগানের প্রায় অর্ধেক মাল্টা বিক্রি করেছেন। সব ফল বিক্রি শেষে জমি লিজের টাকা, শ্রমিকের মজুরী ও অন্যান্য খরচ বাদে চলতি মৌসুমে তার কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা লাভ থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সচরাচর রাজধানী ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ, পাবনা, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর থেকে ব্যাপারীরা তার বাগানে এসে মাল্টা কিনে নিয়ে যান বলে তিনি জানান। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী এবং ক্রেতারা ভিড় করেন তার বাগানে।

মিজানুর রহমান বলেন, ইদানিং বিভিন্ন জাতের ফলে ফরমালিন ব্যবহারের হিড়িক পড়েছে। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। মানুষকে ফরমালিন মুক্ত নিরাপদ ফল খাওয়ানোর কথা চিন্তা করেই মাল্টার বাগান করেছি। অল্প পরিশ্রমে কম খরচে মাল্টা চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ না গিয়ে উদ্যমী তরুণরা দেশেই মাল্টাসহ বিভিন্ন ফল চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন বলে তিনি জানান। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আশানুরুপ সহযোগিতা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন মিজানুর।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব আল মারুফ বলেন, মাল্টা চাষে সফল মিজানুরকে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহসহ নানা ভাবে সহযোগিতা করেছে কৃষি বিভাগ। তার দেখাদেখি এলাকায় মাল্টা চাষের প্রবণতা বাড়ছে। এ উপজেলায় বর্তমানে মোট ১৫ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ করা হয়েছে। তবে সরকারী ভাবে এ ফল চাষে প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকায় মাল্টাচাষীদের খুব বেশি সহযোগিতার সুযোগ থাকে না বলে তিনি জানান।

উদ্যোগ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ