চাকসুর ভিপি নির্বাচিত হওয়ায় রনির জন্মস্থান বাগাতিপাড়ায় মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে। ছবি : নাটোরভিউ২৪
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে জয় লাভ করেছেন বাগাতিপাড়ার কৃতি সন্তান ও ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি। তার এই বিজয়ে বাগাতিপাড়ায় নেমেছে আনন্দের জোয়ার। উপজেলা জুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ, সর্বত্র মিষ্টি বিতরণ আর শুভেচ্ছা বিনিময় করছে স্থানীয় শুভাকাঙ্খী ও শিবির নেতারা।
উপজেলার ফাগুয়ারদিয়াড় ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া এলাকায় রনির গ্রামের বাড়িতে সকাল থেকেই ভিড় করছেন এলাকার মানুষ। কেউ মিষ্টি বিতরণ করছেন, কেউ আবার পরিবারকে অভিনন্দন জানাতে ছুটে আসছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এই বিজয় শুধু একজনের নয়, পুরো এলাকার গর্ব। তাদের ভাষায় এই বিজয় সমগ্র উত্তরবঙ্গের, এই বিজয় নাটোর জেলার, এই বিজয় বাগাতিপাড়া উপজেলার, এই বিজয় গৌরব আমাদের।
ইব্রাহিম ইসলাম রনি নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ এনামুল হক ও আমেনা বেগম দম্পতির ছেলে। রনির বাবা পেশায় একজন কৃষক এবং মা গৃহিণী। চার ভাই বোনের মধ্যে রনিই পরিবারের বড় সন্তান।তিনি উপজেলার পাঁচুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক , মুরাদপুর পাঁচুড়িয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে এমফিলের শিক্ষার্থী
স্থানীয়রা জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ ছাত্রশিবির সমর্থিত রনির বিজয়ের খবর পেয়ে তার গ্রামে রাস্তায় বেরিয়ে সাধারন জনতা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এদিকে সকাল থেকেই উপজেলার মালঞ্চি বাজার, ফাগুয়াড়দিয়াড় বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্র শিবিরের পক্ষ থেকে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
রনির খালাতো ভাই জাহিদ হাসান বলেন, সব আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীসহ গ্রামবাসীদের সঙ্গে সবসময় সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতেন রনি। এছাড়াও সব সময় তাদের খোঁজ-খবর ও যোগাযোগ করে থাকেন। তিনি আরও জানান, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন।
উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি শাহিন আলম বলেন, চাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ২৬ জনের মধ্যে ২৪টি পদে বিজয়ী হয়েছে ছাত্রশিবির। বিজয়ে আমরা ফাগুয়াড়দিয়াড় ও মালঞ্চি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করছি। আশা করি রনি আগামী এক বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আদর্শ ও সোনালী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে সক্ষম হবেন। তিনি বলেন, চাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়ে রনি এখন বাগাতিপাড়ার তরুন সমাজের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
জামায়াত কর্মী হুমায়ুন কবির বলেন, ২০১৩ সালের ১২ মে ঢাকায় বিএনপি-জামায়াতের লংমার্চে অংশ নিতে রাতে ট্রেনে রনির সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। সেদিন রাজশাহী মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় ও নাটোর জেলার অসংখ্য নেতাকর্মীরা ওই ট্রেনে যাচ্ছিলেন। সেদিন ১৪-১৫ বছরের এক কিশোর রনিকে সেদিন দেখেছিলেন মাথায় কালিমা খচিত পতাকা বেঁধে স্লোগানে মুখর করে তুলেছিল পুরো বগি। এক সময় পুলিশের তল্লাশি শুরু হলে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ায় সেদিন রনিকে আটক করা হয়। পরে অনেকের অনুরোধে বয়স কম বিবেচনায় তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
রনির প্রাথমিকের শিক্ষক আনজুম আরা খানম রিতা বলেন, লেখাপড়া ও আচার ব্যবহার সবকিছু মিলে শিক্ষকদের ভালোবাসার একজন ছাত্র ছিল রনি। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। সে ক্লাসের ক্যাপটেন ছিল।
বাগাতিপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মওলানা আফজাল হোসেন বলেন, ভিপি নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে রনিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সে ছোট থেকেই দলের সঙ্গে জড়িত। দলীয় সব কর্মসূচিতে সে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে থাকে।
রনির বাবা এনামুল হক বলেন, তার ছেলে ভিপি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি ও তার পরিবারসহ এলাকাবাসী সবাই আনন্দিত। তার ছেলে সারা জীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করবে এবং মানুষের পাশে থাকবে এটাই তার ইচ্ছা। তিনি তার ছেলের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
