প্রতিকুল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে গার্ল গাইড থেকে দেশ সেরা উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়েছেন নাটোরের বড়াইগ্রামের নীলা চৌধুরী। জীবন সংগ্রামে দারিদ্রকে পেছনে ফেলে সাফল্য অর্জন করে জয়িতা পুরষ্কার প্রাপ্ত নীলা উপজেলার রোলভা গ্রামের সুশীল কুমারের স্ত্রী।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার এক মাস আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি বাবা উৎপল চৌধুরী আর অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিদর্শিকা মা ঝর্ণাধারা চৌধুরীর মৃত্যুতে থমকে যায় তার জীবন। সুখের সংসারে নেমে আসে ঘোর অমানিষা। ছোট দুই ভাই বোনকে নিয়ে জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে বন্ধ হয়ে যায় লেখাপড়া।
কখনও প্রাইভেট পড়িয়ে, কখনও সুঁই-সুতার কাজ আর কখনও খণ্ডকালীন চাকরী করে জীবন চলতে থাকে তাদের। চাকরী করা অবস্থাতেই পুনরায় প্রাইভেট শিক্ষার্থী হিসাবে বিএ এবং ইসলামের ইতিহাসে মাষ্টার্স করেন তিনি। এ সময় তিনি যোগ দেন গার্লস গাইডে।
গার্ল গাইডের সদস্য হিসাবে ২০০৪ সালে হংকংয়ে এবং ২০০৬ সালে থাইল্যান্ডে পৃথক পৃথক কনফারেন্সে অংশ নেন তিনি। এ সময় তার জীবন সংগ্রাম তুলে ধরে ইউনিসেফ এবং গার্লস গাইডের উদ্যোগে একটি ডকুমেন্টারিও তৈরি হয়।
এরপর জীবনের পালাবদলে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু ঢাকায় স্বামীর ব্যবসায় একের পর এক লোকসানে পুঁজি হারিয়ে শুন্য হাতে ফিরতে হয়েছে গ্রামে। এরপর জীবিকা নির্বাহের জন্য ২০১৪ সালে তিনি উদ্যোক্তা হিসাবে বড়াইগ্রাম সদর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে কাজ শুরু করেন। এতেই ধীরে ধীরে সাফল্য ধরা দেয় তার হাতে। ২০১৮ ও ২০২০ সালে তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় (এটুআই) থেকে দেশ সেরা উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়ে পুরষ্কৃত হন তিনি।
২০২১ সালে জেলার সেরা ইউডিসি উদ্যোক্তা এবং করোনাকালে ৩৩৩ এ খাদ্য সহায়তায় সেরা অবদান রাখায় পুনরায় পুরষ্কৃত হন তিনি। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তার পাশাপাশি উপজেলার একমাত্র নারী স্ট্যাম্প ভেন্ডার। তার নামে রয়েছে বিকাশ ও ব্যাংক এশিয়ার এজেন্টশীপ।
এছাড়া অনলাইনে নিজের তৈরি ঘি ও খেজুরের গুড় বিক্রি করেও তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। অদম্য প্রচেষ্টায় অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী হিসাবে নীলা চৌধুরী ২০২২ সালে উপজেলা পর্যায়ে জয়িতা পদকে ভূষিত হন।
