নাটোর আধুুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডায়রিয়ায় আক্রান্তরা। বুধবার তোলা। ছবি : নাটোরভিউ২৪
নাটোর শহরের বিভিন্ন মহল্লায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৫৮ জন নাটোর আধুুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বুধবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৩০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২৮ জন। এখনো হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৬৮ জন নারী-শিশু এবং ৬০ জন পুরুষ রয়েছেন।
হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ অনুসন্ধানসহ সার্বিক বিষয় মনিটরিংয়ের জন্য জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের মনিটরিং টিম গঠন করেছে। নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মাদ মোক্তাদীর আরেফিন জানান, রোগীদের সুচিকিৎসায় ডাক্তার রবিউল আওয়ালের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পৌরসভার লাইনে সরবরাহকৃত পানির কারণেই ডায়রিয়ার এ প্রকোপ দেখা দিয়েছে কি-না নিশ্চিত হওয়ার জন্য সরবরাহকৃত পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
নাটোর আধুুনিক সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নাটোর পৌরসভার ১ ও ২নং ওয়ার্ড এলাকা থেকে একের পর এক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী আসতে থাকেন। হঠাৎ রোগীর চাপ বাড়ায় তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খান চিকিৎসকরা। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান। হাসপাতালে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সুমি খাতুন জানান, রোগীর চাপ সামলাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। আক্রান্তরা জানিয়েছেন, তারা পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি পান করার পর থেকেই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
নাটোর পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় কুমার সরকার জানান, তারা পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিকভাবে এটি পানিবাহিত রোগ বলে মনে হয়নি। তবে নমুনা পরীক্ষা করার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে পাঠানো হবে। ওয়াটার সুপারভাইজার রবিউল ইসলাম জানান, সরেজমিনে আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পৌরসভার ১২টি পাম্পের মাধ্যমে একযোগে পানি সরবরাহ করা হয়। তাই যদি পানি থেকে এমন সমস্যা হতো, পুরো পৌর এলাকার মানুষই আক্রান্ত হতেন। তিনি মনে করেন, গরমের কারণে খাবার থেকেও ডায়রিয়া হতে পারে।
বুধবার দুপুরে রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুক্তাদির আরেফিন বলেন, আমাদের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সার্বিকভাবে চেষ্টা করছেন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইনসহ ওষুধ মজুদ রয়েছে। জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, পৌরসভার সরবরাহকৃত পানির নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের একজন সহকারী কমিশনার, পৌর প্রতিনিধি ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধির সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ডায়রিয়া আক্রান্ত এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করছেন। এছাড়া বিকল্প বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে জেলা প্রশাসন। ডায়রিয়ার প্রকোপ এড়াতে তিনি পানি ফুটিয়ে ও বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করে পানি পান করার জন্য সবাইর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
