অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ

গুরুদাসপুর মুখ থুবড়ে পরেছে স্বাস্থ্যসেবা


স্বাস্থ্য গুরুদাসপুর

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি

(৭ মাস আগে) ২৭ আগস্ট ২০২৫, বুধবার, ৮:৪৫ অপরাহ্ন

natoreview

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি : সংগৃহীত

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট, যন্ত্রপাতির ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একটি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। মুখ থুবড়ে পরেছে স্বাস্থ্য সেবা।

একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লক্ষাধিকসহ প্রায় ৫ লক্ষাধিক  মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

এ উপজেলাটি চলনবিল অধ্যুষিত এলাকা। উপজেলার পার্শ্ববর্তী সিংড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া উপজেলা থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ও কাছে হওয়ায় অতিরিক্ত প্রায় ২  লক্ষাধিক  মানুষ এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসে।  অথচ জরুরি সার্জারি থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা পর্যন্ত বন্ধ থাকায় প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই চরম ভোগান্তিতে পরতে হয় সেবা নিতে আসা রোগীদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৮টি চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২০ জন।  এর মধ্যে তিনজ রয়েছেন ডেপুটেশনে। কার্যত ১৭ জন চিকিৎসকের ওপরই পুরো উপজেলা হাসপাতালের দায়িত্ব পড়েছে। এদিকে নার্সিং বিভাগের ৩৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩৮ জন। অথচ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে নেই সার্জন, অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ কিংবা যৌন ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। সেই সঙ্গে এনেসথেশিয়া ডাক্তারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে সার্জারি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া হাসপাতালের একমাত্র এক্সরে মেশিন বহুদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। তেলের সংকটে  বন্ধ রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স সেবা। যদিও ইসিজি পরীক্ষাসহ কিছু সীমিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালু রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের অনেক সময় বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে হচ্ছে।

হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে প্রতিনিয়ত তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিদ্যুৎ বন্ধ হলেই হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে থাকে। এতে রোগীদের দুর্দশা আরও বেড়ে যায়।

চিকিৎসা নিতে আসা আসমা বেগম, রুপালি খাতুন, রোজিনা বেগম, সুরুজ মিয়া, নজরুলসহ অনেকে বলেন, ‘কারেন্ট না থাকায় অন্ধকারে কিছু দেখা যায় না। গরমে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পরীক্ষা  বাইরে থেকে করাতে হয়।’ বেলা ১২ টা বাজলেই ডাক্তাররা হাসপাতাল ছাড়তে তাড়াহুড়ো শুরু করে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমাস বলেন, ‘আমরা সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে শূন্য পদ পূরণ ও বিকল যন্ত্রপাতি সচল করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের তেলের বরাদ্দ না থাকায় খরচ বিবেচনা করে সাড়ে ৩ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তা একটি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর বন্ধ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ