বাগাতিপাড়ায় বেড়েছে জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রকোপ


স্বাস্থ্য বাগাতিপাড়া

বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি

(৭ মাস আগে) ২০ আগস্ট ২০২৫, বুধবার, ৬:৩৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৬:০৩ অপরাহ্ন

natoreview

বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুধবার জ্বর ও ডায়রিয়ার রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছবি : নাটোরভিউ২৪

বাগাতিপাড়ার সাথী আক্তার ১০ মাস বয়সী তার শিশু নকে নিয়ে এসেছিলেন বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। লম্বা লাইনে দাাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন।

তিনি জানান, তিন দিন ধরে বাচ্চার জ্বর-কাশি। কোন কিছুতেই ভালো হচ্ছে না। তাই হাসপাতালে এনেছেন বড় ডাক্তার দেখাতে। আরেক মা আফরোজা বেগম তার ছেলেকে এনেছেন হাসপাতালে। তিনি জানান, রাত থেকে ছেলে জ্বরে ভুগছে, সঙ্গে বমি ও পাতলা পায়খানা হচ্ছে। ডাক্তার ভর্তি  রেখে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন।

শুধু সাথী আক্তার বা আফরোজা বেগমই নন এমন শত শত মা তাদের সন্তানদের জ্বর-ডায়রিয়ায় আক্রান্তের কারণে হাসপাতালে আনছেন। শুধু শিশুদেরই নয়, ঘরে ঘরে সব বয়সীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে জ্বর। এছাড়াও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার প্রায় সর্বত্রই ভাইরাসজনিত জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। ঘরে ঘরে শিশু, বৃদ্ধের পাশাপাশি সব বয়সের নারী-পুরুষ এ জ্বর-ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরাও পরপর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছেন।

শুধু জ্বরই নয়, সঙ্গে থাকছে শরীরে ব্যথা, সর্দি-কাশি, বমি, এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা এ রোগে বেশি ভুগছেন। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এসব রোগীর চাপে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৬৫০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। এদের বেশির ভাগই জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় ভুগছেন। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও সাপে কাটা রোগীরও দেখা মিলছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীর লম্বা লাইন।

শিশু-বৃদ্ধ সবাইকে নিয়ে স্বজনদের উপচেপড়া ভিড়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও কার্যকর শয্যা মাত্র ৩১টি। ফলে রোগীদের অনেককেই মেঝে বা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ছুটছেন বেসরকারি ক্লিনিকে। কর্তব্যরত নার্সরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। শয্যা সংকটে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রকোপই বেশি। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রেজাউল করিম জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন ও আর্দ্রতার কারণে ভাইরাস জ্বর বাড়ছে। সেকারনে শিশু-বয়স্কদের আলাদা যত্ন নিতে হবে। শরীর শুকনো রাখতে হবে, ঘরে আলো-বাতাস চলাচল রাখতে হবে। তিনি আক্রান্তদের অন্যদের থেকে দূরে রাখতে হবে এবং মাস্ক ব্যবহার পরামর্শ দিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সূচনা মনোহরা বলেন, বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ায় ভাইরাসজনিত ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বেড়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো বাগাতিপাড়াতেও ভাইরাসজনিত জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে দ্রত সেরে ওঠা সম্ভব।  

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ