বাগাতিপাড়ায় কাদার রাস্তায় পাঁচ হাজার মানুষের ভোগান্তি


বাগাতিপাড়া

বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি

(১ বছর আগে) ২৫ জুন ২০২৫, বুধবার, ৪:২৬ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৬:২৬ অপরাহ্ন

natoreview

বাগাতিপাড়ার বাঁশবাড়িয়া ফুলতলা কাঁচা রাস্তা। ছবি : নাটোরভিউ২৪

বাগাতিপাড়ায় পাঁচটি গ্রামের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৫ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া ফুলতলা থেকে জালালপুর পর্যন্ত পৌনে তিন কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে কাদায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। রাস্তাটি পাকাকরন না হওয়ায় ওইসব এলাকার সাধারন পথচারী ছাড়াও শিক্ষার্থী-রোগীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসীদের দাবির মুখে শুধুই আশ্বাস মেলার অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার বাঁশবাড়িয়ার কৈচরপাড়া, দিয়াড়পাড়া, কালিকাপুর, দহপাড়া, চক বাঁশবাড়িয়া গ্রামে প্রায় ৫ হাজার লোকের বসবাস। এসব এলাকা থেকে  প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে বাঁশবাড়িয়া সদরে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে। তাছাড়া সবজিসহ নানান কৃষিপণ্য এসব এলাকায় উৎপাদিত হয়। কিন্তু এসব এলাকার মানুষের চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য ফুলতলা-জালালপুর সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। সড়কটি কাঁচা হওয়ায় পায়ে হেঁটে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হয়। তাছাড়াও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিভিন্ন বাজারসহ পার্শ্ববর্তী আড়ানী ও বাগাতিপাড়া সদরে নিতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফড়িয়াদের কাছে কমমূল্যে বিক্রি করতে হয় কৃষকদের। এর ওপরে বর্ষাকালে বৃষ্টি হলে কাদায় ডুবে যায় রাস্তা। তখন তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। কাদা মাটিতে শিক্ষার্থীদের পরিধেয় কাপড়-চোপড় নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।  স্থানীয় চাষিরাও তাদের পণ্য বাজারে আনা-নেওয়া করতে পরিবহন ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি নিয়ে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরনা দিয়েও শুধু মিলেছে আশ্বাস। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমানে বর্ষার পানিতে কাঁচা রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দফতরে কথা বললেও তারা শুধুই বলেন ‘হবে’। কিন্তু কবে হবে তা জানিনা।

ওই এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় কৃষিপণ্যগুলো বাজারে সরবরাহ করতে বেশি ব্যয় হয়, তাছাড়াও ফড়িয়াদের কাছে কম মূল্যে বিক্রি করতে হয়। তিনি রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী অনূপ কুমার বলেন, রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ন হওয়ায় প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে পাকাকরন করা যাবে।