গুরুদাসপুর উপজেলার চন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলামের দুর্নীতির অভিযোগসম্বলিত তথ্য উল্লেখ করে পোস্টার। ছবি : নাটোরভিউ২৪
গুরুদাসপুর উপজেলার চন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলামের দুর্নীতি, অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্বলিত তথ্য উল্লেখ করে এলাকার দেয়ালে পোস্টার সাটানো হয়েছে। সোমবার (১৪ মে) রাতের ওই পোষ্টারগুলো সাটানো হলেও কে বা কারা এটা করেছে তা অস্পষ্ট। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সরেজমিনে চন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের দেখা পাওয়া যায়নি।
সাটানো পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি সরকার এমদাদুল হকের স্বাক্ষর জাল করে বিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানতের ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে পুত্রবধু ববিতা খাতুনকে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে ওই পোস্টেরে।
অপরদিকে কারিগরি শাখায় আনোয়ার হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, মাজেদ আলীকে নিয়োগ দিয়ে ১৫ লক্ষ টাকার অবৈধ বানিজ্য করেছেন তিনি। এছাড়া হাজেরা খাতুনকে আয়া পদে নিয়োগ দিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার, নিলুফা খাতুনকে প্রমোট শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ৪০ হাজার টাকার নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
ওই সাটানো পোস্টারের বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ আশ্বাসে জাকির, রেনু খাতুন, রানা, শিবলু, গুলশান আরাসহ ৫ জনের কাছ থেকে ২৮ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেও নিয়োগ না দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে জাকির ও গুলশান আরা নিয়োগ বা টাকা ফেরৎ না পেয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নাটোর কোর্টে মামলা করেছেন।
এ ছাড়াও বিদ্যালয়ে ল্যাব চালু থাকলেও শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ব্যবহার করতে না দেয়া, শিক্ষকদের প্রাপ্য টিউশন ফি বুঝিয়ে না দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পোষ্টারে প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলামকে মিথ্যাবাদী, প্রতারক, অর্থলোভী, দুর্নীতিবাজ, ক্ষমতার অপব্যবহারী, স্বজনপ্রীতি ও সুষ্ঠ শিক্ষার ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসাবেও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই পোষ্টারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সচেতন জনগণ, অভিভাবকবৃন্দ দৃস্টি আকর্ষন করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবী করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার সর্তে একাধিক ভুক্তোভোগী জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আশ্বাসে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিলেও নিয়োগ দেননি। এমনকি তারা টাকাও ফেরৎ পাননি। তারা টাকা ফেরৎসহ প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলামের দৃষ্টান্তমুলক বিচার দাবী করেন।
প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম মোবাইলে বলেন, সাটানো পোষ্টারে তাকে জড়িয়ে যে অভিযোগ গুলো করা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিক্তিহীন। এডহক কমিটি নিয়ে ৪টা গ্রুপ হয়েছে। ৮ জন সভাপতি প্রার্থী। অথচ তিন জনের নাম পাঠানো হয়েছে। এনিয়ে একটি পক্ষ যড়যন্ত্র মুলক এসব করে বেড়াচ্ছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, বিষয়টি শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নজরে এসেছে। একাডেমিক সুপার ভাইজারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত। শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
