বাগাতিপাড়ার সেই ১ টাকার চা এখন ৫ টাকা


বাগাতিপাড়া

বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি

(১ বছর আগে) ২০ নভেম্বর ২০২৪, বুধবার, ৮:৪৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৬:২৭ অপরাহ্ন

natoreview

বাগাতিপাড়ায় নিজ দোকানে চা তৈরি করছেন রজব আলী ব্যাপারী ওরফে লালন। ছবি : নাটোরভিউ২৪

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে টিকে থাকতে না পেরে অবশেষে ৩০ বছর পর চা-পানের দাম বাড়ালেন বাগাতিপাড়ার সেই রজব আলী ব্যাপারী ওরফে লালন। ১ টাকার সেই চা এখন বিক্রি করছেন ৫ টাকায়। এক খিলি পানের দামও ১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা করেছেন। সম্প্রতি তিনি এই দাম বৃদ্ধির ঘোষনা দিয়েছেন।

লালন উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। লালন জানান, ১৯৯১ সালে তিনি চা-পান বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। সে সময় তিনি ৫০ পয়সায় এক কাপ চা ও একই দামে একটি পান বিক্রি করতেন। তখন এ মোড়ের নাম ছিল ‘নওপাড়া মোড়’। ১৯৯৪ সালে তা বাড়িয়ে প্রতি কাপ চা ও পানের দাম এক টাকা করেন। তার এ এক টাকায় চা-পান বিক্রির সুবাদে মোড়টির নাম ‘১ টাকার মোড়’ নামে পরিচিতি পায়।

লালনের দোকানের এ চা ও পান খেতে বাংলাদেশের প্রায় সব জেলা থেকেই মানুষ এসেছে। এমনকি সুইজারল্যান্ডের পর্যটকরাও এ চা ও পান খেয়ে গেছেন। ৩০ বছর ধরে এ দামেই বিক্রি করছেন তিনি। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দাম বাড়াননি। অবিশ্বাস্য দামে চা ও পান বিক্রি করে এলাকায় সাড়া ফেলেছিলেন। কৌতূহল থেকেই ছুটির দিনগুলোতে বিকালে লালনের দোকানে ভিড় জমাতো বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ।

কিছুদিন থেকে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কম দামে চা-পান বিক্রি করে জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। ক্ষতি কমাতে মাঝে মধ্যেই লালন তার দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছিল। সে কারনে স্থানীয় এবং ক্রেতাদের মতামত নিয়ে তিনি দাম বাড়িয়ে ১ টাকার চা-পান এখন ৫ টাকা করে বিক্রি করছেন। তিনি আরও বলেন, এর আগে প্রতিদিন ১২শ থেকে ১৩শ কাপ চা এবং ৮শ-৯শ পান বিক্রি করতেন। দাম বৃদ্ধির ফলে এখন বিক্রি অনেকটা কমে গেছে।

ক্রেতারা জানান, লালনের দোকানের চা অন্য দোকানের চেয়ে স্বাদে-গুণে কোনো অংশেই কম নয়। কিন্তু বর্তমানে ১ টাকায় আর তেমন কিছুই পাওয়া যায় না। সে কারনে লালনের এই চা-পান ৫ টাকা হলেও তার ব্যবহার ভালো হওয়ায় ক্রেতারা নিশ্চয় আগের মতোই চা-পান খেতে আসবেন।  

পেড়াবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট শামসুল আরেফিন জানান, বাজার মূল্যের সঙ্গে টিকে থেকে ১ টাকায় চা-পান বিক্রি করা লালনের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তবে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এভাবে তিনি কম দামে চা-পান বিক্রি করে এলাকার নাম বদলে পরিচিতি বাড়িয়ে দিয়েছেন।